প্রধান সূচি

শখের বসে মাল্টা চাষে সাফল্য এনেছে গুয়ারেখার গানের শিল্পি অচিন্ত মিস্ত্রি

বাড়ী বাড়ী গান শেখাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ীর আঙিনায় থোকা থোকা গাছ ভর্তি মাল্টা দেখে শখের বসে মাল্টা চাষ শুরু করেন স্বরূপকাঠী উপজলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের গাববাড়ি গ্রামের গানের মাষ্টার অচিন্ত কুমার মিস্ত্রি।

উপজেলার রাজবাড়ি কলেজের প্রফেসর প্রতিবেশি শ্যামল বাবুর পরামর্শ আর নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে চার বছর আগে পিতার আট কাঠা জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেন অচিন্ত মিস্ত্রি। শুরুতে ২২৫টি মাল্টা চারা রোপন করে বছরের প্রথমেই গাড় সবুজ রঙের মধ্যে হলদেটে ভাবের টসটসে মিষ্ট স্বাদের পাকা মাল্টায় ক্ষেত ভরে যায় তার। উপজেলার কৃষি বিভাগের কোন রকম পরামর্শ ছাড়াই ওই বছর তার বাগানে মাল্টার বাম্পার ফলন মিলে। এ বছর ৩৬৫টি গাছে অচিন্তের ক্ষেতে ৮৫-৯০ মনের মত সুমিষ্ট মাল্টার ফলনে তিনি এখন এ উপজেলার মাল্টা চাষের রোল মডেল। তার ক্ষেত ভর্তি সুমিষ্ট মাল্টা দেখে যে কারোরই নজরকাড়ে। এজন্য প্রতিদিন ফলপ্রেমী ৩০-৩৫ জনের মত দর্শনার্থী আসে তার মাল্টা বাগানে। চাষের শুরুতেই ক্ষেতে কাঙ্খিত পরিমানে মাল্টা মেলায় বর্তমানে অচিন্তের বেড়েছে মাল্টা বাগানের পরিধি ও ফলের পরিমান। অচিন্তের সেই আট কাঠা জমি থেকে এখন এক বিঘা জমিতে সম্প্রসারণ হয়েছে মাল্টার চাষ। রয়েছে ৬০০টি মাল্টা গাছ। এছাড়াও ক্ষেতে রয়েছে চাইনিজ কমলা, বাতাবি ও আরো বাহারী জাতের মাল্টা চারা ও ফল ভর্তি গাছ। প্রতিদিনই উৎসুখ মানুষেরা আসে তার ‘শান্তি ছায়া নার্সারী ও ফলজ বাগান’ দেখার জন্য।

মাল্টাচাষী অচিন্ত কুমার মিস্ত্রি বলেন, একসময় গানই ছিল তার নেশা পেশা। তিনি বরিশাল বেতারে গান করেন পাশাপাশি বাড়ী বাড়ী গিয়ে শিক্ষার্থীদের গান শেখাতেন। এই গান শেখানোর জন্যই বিভিন্ন জায়গায় পদচারনায় নানা জায়গায় দেখা হয় ফল ভর্তি মাল্টা গাছ। এতে আগ্রহ জাগে মাল্টা চাষের। পরবর্তীতে তার প্রতিবেশি এক কলেজ শিক্ষকের পরামর্শে পৈত্রিক আট কাঠা সম্পত্তিতে ২০০টি চারা দিয়ে শুরু করেন বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ। চাষের শুরুতেই মিলে কাঙ্খিত ফলন। প্রথম বছর সে প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে তার উৎপাদিত মাল্টা বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রায় বিশ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। এরপর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রতি বছরই বাড়ে বাগানের পরিধি ও ফল। আর এসব উৎপাদিত মাল্টা তিনি পার্শ্ববর্তী কাউখালি, নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠির বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে থাকেন।

অচিন্ত বলেন, এ বছর তার ৩৬৫টি গাছে ৯০ মনের মত মাল্টার ফলন মিলেছে। পাঁচ হাজার টাকা মন হিসেবে সে মাল্টা বিক্রি করে তার উপার্জন হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

মাল্টা চাষী অচিন্তের দুই ছেলে মেয়ে। বড় মেয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হার্ট ফাউন্ডেশনের নার্স এবং ছেলে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্ত্রী পিকি মিস্ত্রি সর্বদা থাকেন বাগান দেখাশুনার কাজে।

অচিন্ত বলেন, তার দেখা দেখি এলাকায় বর্তমানে অনেক মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা কেউ কেউ ইতোমধ্যে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। যদি স্থানীয় কৃষি বিভাগ সর্বদা তাদের একটু পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে তাহলে এ পেশায় স্বাবলম্বি হওয়া সহজ বলে আমি মনে করি। গাছের সঠিক পরিচর্যা ও পাশে জন্মানো আগাছা নিড়ানোর জন্য বর্সদা তার রয়েছে একজন শ্রমিক। এছাড়া ফলের মৌসুমে তিন থেকে চারজন শ্রমিক ক্ষেতে কাজ করে থাকে। মাল্টা চাষের জন্য বড় ধরনের খরচপাতি ও পরিচর্যার দরকার হয়না।

সফল এই মাল্টাচাষী বলেন, বারি-১ জাতের এই মাল্টা গাছে বাংলা মাঘ মাসে ফুল আসে। তারপর ফুল টেকানোর জন্য হরমন জাতীয় স্প্রে দিতে হয়। এরপরে ফাল্গুনে ফুল থেকে গুটি আসে। এরপরে গাছে বেড়ে উঠে গাড় সবুজ রঙের থোকায় থোকায় মাল্টা। বাংলা আশ্বিন থেকে অগ্রাহায়ন মাস পর্যন্ত বাজারে পুরোপুরি মাল্টা বিক্রির উপযুক্ত সময় হয়ে যায়। অচিন্ত বলেন, তার বাগানের মাল্টা একদম বিষমুক্ত বলে বাজারে বিক্রির আগেই স্থানীয়রা স্বাধ নেওয়ার জন্য এসে কিনি নিয়ে যায়।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial