অন্যের জমিতে ভূয়া বিদ্যালয় বানিয়ে
নাজিরপুরে শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ
নাজিরপুরের গাওখালিতে অন্যের জমিতে ভূয়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ের কোন কার্যক্রম না থাকলেও কাগজ কলমে উত্তর পূর্ব পাকুরিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নাম রেখে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের একটি ভূয়া খবর ছড়িয়ে টাকা কামানোর লক্ষে এলাকায় ধান্দায় নেমেছেন। আর এজন্য গাওখালি বাজারের খেয়াঘাট সংলগ্ন ওই জায়গাটি দখল নিয়ে একটি ঘর তুলে বানানো হয়েছে সাজানো কমিটি। পাঠদান ব্যবস্থার জন্য এলাকা থেকে ভাড়া করা ১০/১২ জন ছেলে মেয়ে এনে নামমাত্র ওই ভূয়া বিদ্যালয়ে সময় বিশেষ পাঠদান চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, গাওখালির খেয়াঘাট সংলগ্ন ওই এলাকায় স্থানীয় একজনের কাছ থেকে কবলামূলে ৩২ শতাংশ জমি ক্রয় করে সুকুমার হাং, জগেন্দ্রনাথ হাং সহ চার ব্যক্তি। যার ১৬ শতক ভূমি গাওখালির ওই খেয়াঘাট এলাকায় রয়েছে। সম্প্রতি, একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে জায়গাটির উপর রাতারাতি একটি ঘর তুলে বিদ্যালয় বলে ঘোষণা দিয়ে সেখানে শিক্ষক নিতে নেমে পড়ে টাকার ধান্দায়। আর এজন্য জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকার ঘুষ। এমনকি এজন্য সময় বিশেষ সেখানে পাঠদান দেখানোর জন্য টাকার বিনিময়ে এলাকা থেকে ভাড়া করা হচ্ছে শিক্ষার্থী। তারপরও সেখানে বাস্তবে কোন শিক্ষার্থী না দেখাতে পারলেও তাদের সৃজন খাতাপত্তরে দেখানো হচ্ছে ১০/১২ জন শিক্ষার্থী।
ওই বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন জমি আছে কিনা জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সাজানো কমিটির লোক জগবন্ধুর বলেন, আমার কিছু জানা নেই। কমিটির অন্য লোক আছে তাদের কাছে গিয়ে জানেন। ঘটনাক্রমে ওই দিন ২৪ অক্টোবর দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়। সেখানে ওঠানো ঘরটি রয়েছে তালাবদ্ধ। দেখা মেলেনি কোন শিক্ষক, শিক্ষার্থীর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ে তাপসি হালদার নামে শিক্ষিকা পরিচয়ে এক মহিলা দেখভাল করেন। বিদ্যালয়ের ওই সাজানো কমিটির কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে মাঝে সাজে এসে তালা খুলে বসে থাকেন।
ওই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে এলাকার ৩নং দেউলবাড়ী ডোবরা ইউনিয়নের এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমার জানামতে বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন জমি নেই। অন্যের জমি দখল করে টাকা কামানোর ধান্দায় সেখানে একটি ঘর তুলে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা চালানো হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাই।
