প্রধান সূচি

চিতলমারীর ব্যতিক্রমী ভাস্করশিল্পী কমলেশ

বাগেরহাটের চিতলমারীর ভাস্করশিল্পী  কমলেশ ১৫ বছর বয়স থেকেই প্রতীমা গড়েন। বয়স এখন তার ২৬ বছর। এরই মধ্যে চিতলমারীসহ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে তার খ্যাতি। শখের বশে ¯্রফে ভাল লাগা থেকে এ শিল্পে যাত্রা শুরু করে এখন বছরান্তে আয় করেন দুই লক্ষাধিক টাকা। টাকাটা তার কাছে মূখ্য নয়- শিল্পের ছোঁয়ায় যতক্ষণ থাকেন, ততক্ষন তিনি সবচেয়ে সুখি একজন মানুষ।

চিতলমারী উপজেলার গরীবপুর গ্রামের গৌর বিশ্বাসের পুত্র কমলেশ বিশ্বাস শিল্পের নেশার টানে ১৫ বছর বয়সে বেরিয়ে পড়েন ঘর ছেড়ে। ভাস্করশিল্পী কিশোর বিশ্বাসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে গড়েন প্রতিমা। খড়কুটো, বাঁশ-চটা, সুুতালীর কাঠামোয় আদর যতেœ লেপন করেন কাঁদামাটি। তা শুকানোর পর উষ্ণ পরশে ও গভীর মমতায় তার গায়ে নানা রঙে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজান স্বপ্নের দেব-দেবী। এরপর ক্রেতারা সেগুলো ক্রয় করে নিয়ে ভক্তি নিবেদনে করেন পূজা অর্চনা। দুর্গা, লক্ষ্মী, শ্যামাকালী, লোকনাথ ব্রক্ষ্মচারীসহ শত প্রকার প্রতিমা গড়ার কাজ জানেন তিনি। ছবি দেখে যেকোন মানুষের প্রতিকৃতিও গড়ে দিতে পারেন তিনি অবলীলায়।

ভাস্কর্য্য শিল্পের কাজের নেশায় এসএসসি পাশের পর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আর এগোতে পারেননি তিনি। শিল্পের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গুরুত্বহীন বলে তিনি মনে করেন। একজন শিল্পীর সৃস্টিকর্মের মূল্যায়ন কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বারা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যতটা সার্টিফিকেট দেয়, ততটা সৃষ্টিকর্ম দিতে পারেনা।’’

বছরের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানাদির বায়না পেয়ে তিনি এখন প্রতিমা গড়েন। বাকী সময় গ্রামে বাড়ির সামনে নিজের মুদি দোকানের ব্যবসায় মনোযোগ দেন। খরিদ্দার না থাকলে দোকানে বসে বসে আঁকেন ছবি।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial