প্রধান সূচি

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পিরোজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

কন্ঠ রিপোর্ট :

সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ এবং আমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারের পানিতে পিরোজপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলী জমি, মাছের ঘের, পানের বরজ, কলা ও সবজি বাগান। বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। সকাল থেকে পিরোজপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। টানা বৃষ্টিতে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।

বৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের শিক্ষা অফিস রোড, মধ্যরাস্তা, আমলা পাড়া, আদর্শপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। পৌর এলাকার খুমুরিয়া, কলেজ রোড, শিকারপুর, বৌদ্ধপাড়া, মরিচালসহ বিভিন্ন এলাকা, সদর উপজেলার  শংকরপাশা, টোনা, কদমতলা, দূর্গাপুর, কলাখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জেলার নাজিরপুর, কাউখালী, ইন্দুরকানী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কমপক্ষে ৭০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গত বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলছিলো। নিম্নচাপ আর অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমাদের কাউখালী প্রতিনিধি জানান, নদী তীরবর্তী কাউখালী উপজেলার ফলইবুনিয়া, পাঙ্গাশিয়া, জোলাগাতি, চিরাপাড়া, বিজয়নগর, সুবিদপুর, সোনাকুর, আশোয়া, বাশুরী, রঘুনাথপুর, বেকুটিয়া, ধাবরী, গর্ন্ধব, আমরাজুরি, জয়কুল, ডুমজুড়ি, কুমিয়ান, আসপর্দী, কচুয়াকাঠী, গুচ্ছগ্রাম, বিড়ালজুড়ি, মেঘপালসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কাউখালী উপজেলার সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু জানান, তার ইউনিয়নে বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। রাস্তাঘাট বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় ওই গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এসব গ্রামে পানিতে অনেক মাছের ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

নাজিরপুর প্রতিনিধি জানান, উপজেলার দেউলবাড়ী, বিল ডুমুরিয়া, মনোহরপুর, দাসপাড়া মুগারঝোর,  সোনাপুর, যুগিয়া, মালিখালী, ঝনঝনিয়া, পাকুরিয়া, চাদকাঠী, ঘোষকাঠী, রগুনাথপুর গ্রামগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই এলাকাগুলোর বিভিন্ন মাছের খামার পানিতে তলিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ বের হয়ে গেছে।

এছাড়া ভারী বর্ষন ও জোয়ার পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনসাধারনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দেউলবাড়ী গ্রামের মাছচাষী ইব্রাহিম গাজী বলেন, জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার তার মাছের ঘের তলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ বের হয়ে গেছে।

কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাটসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জগৎপ্রিয় দাস বিষু জানান, অতিবৃষ্টি ও জেয়ারের অতিরিক্ত পানিতে আমন ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তবে পানের বরজ, কলা ক্ষেতসহ মৌসুমী সবজির ক্ষতি হবে।

এদিকে, নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় অভ্যন্তরীণ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তবে দুপুরের পর ষ্টীমার মধুমতি, ঢাকাগামী দ্বিতল লঞ্চ অগ্রদূত প্লাস এবং ফারহান লঞ্চ পিরোজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে গেলেও লঞ্চদুটিকে স্বরূপকাঠীতে আটকে দেয় বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেকুটিয়া, আমরাজুড়ি ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে, সকাল থেকে পিরোজপুরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শনিবার বিকেল ৪ টার দিকে জেলা শহরে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও আধাঘন্টা থেকে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে পিরোজপুর বিদ্যুৎ বিভাগের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী (আবাসিক) মোঃ রবিউল হক জানান, বাগেরহাট-পিরোজপুর বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ওভারহেড লাইনে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গাছ অপসারণ করে লাইন চেক করে বিদ্যুৎ দেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, শনিবার বিকেলে জেলা শহরের তিনটি ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হলেও তা আবার ফল্ট করছে মাঝে মাঝে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial