বাগেরহাটে ভারী বর্ষনে পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ
মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নি¤œচাপের প্রভাবে গত ৩ দিন ধরে চলতে থাকা থেমে থেমে ঝড়ো হওয়ার সাথে ভারী বর্ষনের ফলে বাগেরহাট শহর ও সদর উপজেলার নি¤œাঞ্চলসহ বাগেরহাট পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়ক হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, ডেমা, খানপুর, রাখালগাছী, গোটাপাড়া, যাত্রাপুর, ষাটগুম্বুজ, বেমরতা, বিষ্ণুপুর, বারুইপাড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি কয়েক হাজার চিংড়ী ঘের ও পুকুরের মাছ বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে। ভারী বর্ষনে কারনে বাগেরহাট শহরের ভিঅইপি রোড, মিঠাপুকুর পাড়, পিসি কলেজ, হাড়িখালী, মেইন রোড, সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, থানার মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম রোড়, পুরাতন বাজার, রেলরোড়, দাসপাড়ার মোড়, বাসাবাটি, খারদ্বার, সাহাপাড়া ও স্টেডিয়ামের পিছনের এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার সড়কসহ অধিকাংশ ঘর-বাড়ী হাটু পানিতে প্লাবিত হয়ে সাধারন মানুষের দূর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
শহরের খারদ্বার এলাকার বাসিন্দা আল আমিন খান সুমন জানান, ঘরের মধ্যে হাটু পানি। ঘরে বসবাস করাই দুরহ হয়ে উঠেছে। রান্না খাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে খারদ্বার এলাকার অধিকাংশ বাড়ীতে রান্নাবান্না বন্ধ। পানিবন্দি হয়ে খারদ্বারবাসী চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ভারী বর্ষনে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, ডেমা, গোটাপাড়া, যাত্রাপুর, ষাটগুম্বুজ, বেমরতা ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শত শত চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টির পানিতে চিড়িং ঘের ভেসে যাওয়া সদর উপজেলার হাজার হাজার চিংড়ি চাষী হতাশায় দিন পার করছেন।
সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের চিংড়ি চাষী মোঃ কামাল শেখ জানান, গত রাতেই বৃষ্টির পানিতে ঘেরে পানি উঠে যায়। নেট জাল ও পাটা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ভারী বর্ষনে আমার প্রায় এক লক্ষা টাকার মাছ ভেসে গেছে।
কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বশিরুল ইসলাম জানান, ভারীবর্ষনে ইউনিয়নের কয়েক শত মাছের ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পান বরাজে পানি উঠে যাওয়ায় ইউনিয়নের অনেক কৃষক র্দূচিস্তায় পড়েছে।
ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু জানান, বৃষ্টির পানিতে ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারনে শত শত লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার মাছের ঘের ভেসে গেছে নষ্ট হয়ে গেছে সবজি ক্ষেত।
অপরদিকে, ভারী বর্ষনে শনিবার সকালে জেলার কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড-কচুয়া আঞ্চলিক সড়কের খলিশাখালি নামক স্থানে একটি মেহগনি গাছ রাস্তার উপর উপড়ে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে দুটি বিদ্যুৎতের খুটিও ভেঙ্গে গেছে। বিদ্যুৎতের খুটি ভাঙ্গায় কচুয়া উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙ্গে যাওয়া বিদ্যুৎতের দুইটি খুটিতে তিনটি ট্রান্সফরমার ছিল। ঘটনার পর থেকে কচুয়া পল্লি বিদ্যুৎতের কর্মীরা বিদ্যুৎতের সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ করছে।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহা-ব্যবস্থাপক মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। আশা করছি অতিদ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যাবে।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মাসুদ বলেন, গাছের মালিক জেলা পরিষদ। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কে যান চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
