প্রধান সূচি

নিয়োগে আছে নৌকা চালক ॥ চালাচ্ছেন স্পীডবোট

কাগজে কলমে নৌকা চালক (বিএম) হিসেবে কর্মস্থলে নিয়োগ হলেও সে চালাচ্ছেন কেবিন ক্রুজার হাইস্পীড বোট। দীর্ঘ কয়েক বছর সুন্দরবন বিভাগের ওই নৌকা চালক স্পীড বোট চালিয়ে আসলেও বনবিভাগের কর্মকর্তারা অনিয়মের কিছু দেখছেননা, উল্টো তার এ কাজকে দক্ষতার সাথে প্রশংসা করেছেন। যদিও ওই বিভাগে স্পীডবোট ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ আছে তিন ব্যক্তির। তবে তাদের দক্ষতার চেয়ে ওই নৌকা চালকের দক্ষতা বেশি বলে দাবী করেছেন সুন্দরবন বিভাগের কর্তারা।

সুত্র জানায়, মনিরুজ্জামান বদি, ব্যাচ নং-৩৫৪ নামে পূর্ব সুন্দরবনের মংলা চাঁদপাই রেঞ্জের ফুয়েল জেটিতে নিয়োগ পান বি.এম  (নৌকা চালক) হিসেবে। কিন্তু নিয়োগের পর একদিনেও তাকে বনবিভাগের নৌকা চালাতে হয়নি। চালিয়েছেন কেবিন ক্রুজার হাই স্পীডবোট। তাতে ছিল বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশি বিদেশী অনেক ভিআইপি অতিথি। চাঁদপাই রেঞ্জের আওতায় এ জেটিতে স্পীডবোট ড্রাইভার হিসেবে দায়িত্বরত অনেকে থাকলেও তাদের স্পীডবোটের চালকের আসনে বসতে হয়নি। একা বদিতেই সন্তুষ্ট বনবিভাগের কর্তারা। এই নৌকা চালক বদির আবার তিন মাস আগে পাশের ষ্টেশন ঢাংমারীতে বদলির আদেশ হলেও রহস্যজনক কারনে তিনি ওখানে যোগদান করেননি। এখনো আছেন আগের স্থান ফুয়েল জেটিতে।

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের এসিএফ (সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা) মোঃ মেহেদীজ্জামান জানান, বনবিভাগের বিএম (নৌকা চালক) স্পীডবোট চালাতে পারবেন না। তাহলে ফুয়েল জেটিতে নৌকা চালক মনিরুজ্জামান বদি কিভাবে স্পীডবোট চালাচ্ছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আসলে বদি দক্ষতা অর্জন করছে, “আমার চাঁদপাই রেঞ্জের ঘাটে অনেক স্পীডবোট চালক আছেন তারা লঞ্চ চালাচ্ছেন।”

নৌকা চালক বদি স্পীডবোট চালালে ফুয়েল জেটিতে নিয়োগ পাওয়া সিরাজুল ইসলাম, মোঃ সবুর আলী এবং আনিসুর রহমান নামে এই তিনজন স্পীডবোট চালকদের কাজ কি, জানতে চাইলে এসিএফ মেহেদীজ্জামান জানান, তাদের সবার নামে একটা করে স্পীডবোট আছে।

এদিকে বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক, খুলনা (সিসিএফ) আমির হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নৌকা চালকের যোগ্যতা থাকলে স্পীডবোট চালতে পারেন। “যেমন আমার অনেক নৌকা চালক গাড়ীও চালায়”। তাহলে স্পীডবোট চালক হিসেবে নিয়োগ থাকা সত্বেও কেন নৌকা চালক দিয়ে এই ঝুঁকি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাহলেতো যে ষ্টেশনের কেইস সেই বলতে পারবেন, কেন চালাচ্ছেন।

এদিকে মনিরুজ্জামান বদিকে তিন মাস আগে পাশের ষ্টেশন ঢাংমারীতে বদলি করা হলেও কেন তিনি ওই ষ্টেশনে যোগদান করেন নি। এবিষয়ে সিসিএফ আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, বদলি জনিত বিষয় বিভাগীয় কর্মকর্তার (ডিএফও) ব্যাপার। তিনি দেশের বাইরে আছেন, দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে তার কাছে শুনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

আর সেই নৌকা চালক (এখন স্পীডবোর্ট ড্রাইভার) মনিরুজ্জামান বদির কাছে জানতে চাওয়া হয় নৌকা চালক হিসেবে নিয়োগ পেলেও কীভাবে স্পীডবোট চালাচ্ছেন, তিনি বলেন এটা আমার অফিস জানে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial