বাছুরসহ গাভী চুরি
স্বাবলম্বি হতে পারলো না ভিক্ষুক মনোরঞ্জন
পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের ভিক্ষুক মনোরঞ্জন মন্ডলের স্বাবলম্বি হয়ে ওঠা আর হলো না। জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে গাভী পালন করে এবং দুধ বিক্রি করে জীবন যাপন শুরু করেছিলেন মনোরঞ্জন। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি ঘটালো চোরের দল। বাছুরসহ গাভীটি চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। গত ১৮ অক্টোবর রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জুজখোলা গ্রামের মৃত শশী ভূষন মন্ডলের ছেলে মনোরঞ্জন মন্ডল (৭৫) ভিক্ষা করে স্ত্রী কে নিয়ে জীবন যাপন করতেন। একই সাথে বিবাহিত দরিদ্র মেয়ে সন্তানকেও মাঝে মাঝে ভিক্ষার টাকা দিয়ে সহায়তা করতে হতো তার।
ভিক্ষাবৃত্তি বাদ দিয়ে মনোরঞ্জনের জীবন মানের উন্নয়নের লক্ষে পল্লী কর্ম ফাউন্ডেশনের সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় বেসরকারী সংস্থা ‘ডাক দিয়ে যাই’ একটি গাভী এবং কয়েকটি হাঁস-মুরগী দেয়া হয়। হাঁস-মুরগী পালন করে তার ডিম বিক্রি করে নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি গাভীকে গো-খাদ্য কিনে খাওয়াতেন। সম্প্রতি গাভীটি একটি বাছুরের জন্ম দেয়। বর্তমানে গাভীর দুধ বিক্রি করে ভালো রোজগার হচ্ছিল মনোরঞ্জনের। কিন্ত গাভী ও বাছুরটি চুরি হয়ে যাওয়ায় সে নিঃস্ব হয়ে গেছে এখন। তার জীবন জীবিকার প্রধান মাধ্যমটি চুরি হয়ে যাওয়ায় মনেরঞ্জন দিসেহারা হয়ে পড়েছে। গাভী চুরির বিষয়ে থানায় অভিযোগও দিয়েছে সে। তবে গাভী ও বাছুরটি এখনও উদ্ধার না হওয়ায় চিন্তিত।
ডাক দিয়ে যাই এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির সমন্বয়কারী মোঃ আজিজুর রহমান জানান, মনোরঞ্জনকে ভিক্ষুকের অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনে তার জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে সংস্থা থেকে একটি গাভী ও কিছু হাঁস-মুরগী দেয়া হয়েছিল। এসব পালন করে এবং গাভীর দুধ বিক্রি করে তার সংসার চলছিল। কিন্তু গত ১৮ অক্টোবর তার গাভী ও বাছুরটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এখনও গাভী ও বাছুরটি উদ্ধার না হওয়ায় দুঃচিন্তায় রয়েছে মনোরঞ্জন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুমুর রহমান বিশ্বাস বলেন, গাভী চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি শুক্রবার থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছে। চুরি যাওয়া গাভী ও বাছুরটি উদ্ধারের চেষ্ঠা চলছে। ভিক্ষুকের গাভী চুরি বিষয়টি আইনী উদ্যোগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকেও দেখারও চেষ্টা করছি।
