নির্বাহী প্রকৌশলী কিছুই জানেন না
পিরোজপুরের কঁচা নদীতে বেকুটিয়া ফেরি বিকল ॥ ৪ ঘন্টা যানবাহন পারাপার বন্ধ
খুলনা-পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের পিরোজপুরের কঁচা নদীর বেকুটিয়া ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পযর্ন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী শত শত যানবাহন নদীর দু’তীরে আটকা পড়ে।
জানা গেছে, পিরোজপুরের কুমিরমারা প্রান্ত থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কাউখালী উপজেলার বেকুটিয়া প্রান্তের উদ্দেশ্য ছেড়ে আসা ইউটিলিটি-৩৬ টাইপ ফেরিটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝ নদীতে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার পর স্রোতের টানে প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরে উপজেলার শিয়ালকাঠীর পাঙ্গাসিয়ার কাছে নদীতে ভাসছে থাকে। পরে ট্রলারে করে সড়ক বিভাগের ফেরী শাখার মেকানিক গিয়ে ৫ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফেরীটি সচল করতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে, ফেরীঘাটে অপর একটি সচল ফেরী বাধা থাকলেও চালকের অভাবে সেটি দিয়েও যানবাহন পারাপার করানো যায় নি।
এদিকে, ফেরি বন্ধ থাকায় বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, স্বরূপকাঠী, ঝালকাঠীসহ এ ফেরি পথে যাতায়াতকারী সব রুটের যান চলাচল বিকেল থেকে বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন এ রুট ব্যবহারকারী হাজারো যাত্রী।
আটকেপড়া কিছু যানবাহনগুলো প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে পিরোজপুর-ভান্ডারিয়া সড়কের চরখালী ফেরি পার হয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, বেনাপোলসহ নিজ নিজ গন্তব্যে যাত্রা করে। এর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তিসহ গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেকুটিয়া ফেরীর এক প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকে একটি ইঞ্জিন দিয়ে ফেরীটি চলাচল করছিল। বিকেলে সেটিও বিকল হয়ে যায়। তিনি জানান, পিরোজপুরের বেকুটিয়াসহ বিভিন্ন স্থানের ফেরীগুলো পুরোনো। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে এসব ফেরীর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
এদিকে, বেকুটিয়া ফেরী বন্ধের বিষয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এসময় তিনি খবর নিয়ে জানাবেন বলে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন। কিছুক্ষন পরে তিনি ফোন করে ঘটনার সত্যত্য স্বীকার করে বলেন ফেরীটি ঠিক হয়ে যাচ্ছে এবং আটকে পড়া যানবাহন দ্রুত পারাপারের জন্য দুটি ফেরী চলাচল করবে।
