কাউখালীতে পোকা দমনে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি
কাউখালীতে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কীটনাশক ছাড়াই ক্ষতিকারক পোকা দমনের পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতির ব্যবহার।
জমিতে সার দেয়ার পর থেকেই রোপা-আমন খেতে বাদামী ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা ও চুঙ্গি-মাজরাসহ নানা ধরনের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা কীটনাশকসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন।
বর্তমানে কৃষকরা খেতে কীটনাশক ওষুধ পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও পরিবেশ বান্ধব পার্চিং এবং আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার রাতে উপজেলার ১৫টি কৃষি ব্লকে একযোগে এসব ফাঁদ স্থাপন করা হয়। তবে এসব ফাঁদে ক্ষতিকর কোনো পোকার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমন ধানের ক্ষেতের আইলে কোথাও পানি ভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের ওপর আলো জালিয়ে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরছেন। কৃষকরা নিজেই জমিতে এই পোকাগুলোর পরিমাণ দেখে ধান ক্ষেতে কী ব্যবস্থা নিতে হবে তা খুব সহজেই নিরূপন করতে পারছেন। যার ফলে পোকার আক্রমনের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন উপজেলার কৃষকরা।
কাউখালী উপজেলার ১৫টি ব্লকে স্থাপিত চল্লিশটি আলোক ফাঁদে উপকারী ড্যাম সেল ফ্লাই পোকা পাওয়া গেলেও ক্ষতিকর বাদামি গাছফড়িং পাওয়া যায়নি বলে জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার। তিনি জানান, ধান গাছে ভাইরাস সংক্রমণকারী গ্রিন লিফ হপারও মাজরা এবং পাতা মোড়ানো পোকার উপস্থিতি অর্থনৈতিক ক্ষতিসীমার অনেক নিচে অবস্থান করছেএবং সাধারণ কিছু পোকার উপস্থিতি রয়েছে।
উপজেলায় চলতি মৌসুমে চার হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভাল ফলন পাওয়া যাবে বলে এ কৃষিবিদ আশা প্রকাশ করেছেন।
শিয়ালকাঠী গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই আমন ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা প্রাকৃতিক, সহজ, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব ডেড এবং আলোক ফাদঁ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কমেছে কীটনাশকের ব্যবহার।
রবিবার উপজেলার আসপদ্দি কৃষি ব্লকের ব্র্যাক মাঠ মাঠসংলগ্ন জমির পাশে স্থাপিত আলোক ফাঁদ পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পবিত্র কুমার রায়। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় এলাকার প্রায় ৩০ কৃষকের সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন।
