প্রধান সূচি

সংসদীয় আসন বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা)

বিএনপির প্রার্থী হতে চান ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির

 এক এগারোর পর থেকে মামলা আর নির্যাতন মাথায় নিয়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও শরনখোলায় দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির।

ছাত্রজীবন থেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল ও বিএনপিতে আছেন। তার  ওপর একাধিক মামলা, হামলা নির্যাতন হলেও বিএনপি ছাড়েননি দলের জন্য নিবেদিত এই মানুষটি।  ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নেত্রীর নির্দেশে বাগেরহাট-৪ তথা মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা উপজেলায়  ২৬টি পথসভার কর¤সূচি ঘোষণা করেন। ২৩টি পথসভা সফলভাবে স¤পন্ন করার পর ২৪তম  পথসভা চলাকালে শরণখোলা থানার সামনে ৫ রাস্তার মোড় থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার  করা হয় কাজী মনিরুজ্জামানকে। অনেক দিন জেলে থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

কাজী মনির বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছি দলের জন্য। দল থেকে কিছু  পাওয়ার আশায় রাজনীতি করি না। মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার মাটি ও মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্খা ছোট বেলা থেকেই। সেই আশাকে সামনে নিয়ে আমি মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলাকে দেশের  মডেল সংসদীয় এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য অনেক দিন থেকে এলাকায় কাজ করছি।  আশা করি আগামিতে দল যদি ক্ষমতায় যায় আর আমি জাতীয় সংসদে যেতে পারি তাহলে  মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলায় চমক দেখাবো।

তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পাই বা না পাই আজীবন মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলার উন্নয়নে এবং  এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

দল মনোনয়ন না দিলে কি করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী মনির বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা  জিয়া ও আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান যাকে মনোনয়ন দেবেন আমি তার জন্যই কাজ  করবো। তেমনি অন্যদের কাছেও আমার অনুরোধ থাকবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য সবাই  ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে। মনোনয়নটা বড় বিষয় নয়। দলকে ক্ষমতায় নেয়াই বড়  বিষয়।

কাজী মনির বলেন, তাদের পক্ষে কাজ করা মানে দেশনেত্রীর নির্দেশ মেনে চলা।

এলাকার মানুষ আপনাকে কেন ভোট দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী মনির বলেন, ২০১৫ সাল  পর্যন্ত আমি এলাকায় ছিলাম। সৎপথে নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। এলাকায় যেসব কাজ করেছি তার ফিরিস্তি সংক্ষিপ্ত সময়ে দেয়া সম্ভব নয়। তবে যেটুকু মনে পড়ে,  তার মধ্যে মাতৃভাষা কলেজে ভবন  ও শহীদ মিনার নির্মাণ। পঞ্চকরন ইউনিয়নে জমি কিনে প্রাক  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ,  ফেরিঘাট মসজিদ- মাদ্রাসার জন্য প্রায় ১ বিঘা জমি দান, যার মুল্য ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা। ওই  জমিতে সৌদি আরবের অর্থায়নে মসজিদ- মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ সি লাহা হাইস্কুলে অনুদান, এস এম কলেজ ও মসজিদে অনুদান, আবু বকর স্মৃতি মাদ্রাসায়  অনুদান, কালাচাঁদ আওলিয়া মাজারে মসজিদ নির্মাণ, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের জমি কেনায়  অনুদান দিয়েছি। চিংড়াখালী হাইস্কুলে অনুদান দিয়েছি।

১৯৯৩ সালে যোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালে কর্নেল অলি আহমেদকে নিজ উদ্যোগে এলাকায় এনে সরকারি বরাদ্দ করিয়ে সাইন বোর্ড থেকে শরনখোলা রাস্তা ইটের সলিং থেকে কার্পেটিং করিয়েছি।  যার সাক্ষী মতি খাঁ চেয়ারম্যান, আজিজ মিলিটারী। ৯৩ সালে পানি স¤পদ মন্ত্রী মাজেদুল হককে এলাকায় এনে সরকারি বরাদ্দ করিয়ে ভোলা নদী খনন করার ব্যবস্থা করেছি।

মাতৃভাষা কলেজ এমপিওভুক্ত করার জন্য এক দালাল ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিল, যা আমি ফ্রি করিয়েছি। দক্ষিণ বাংলা কলেজকেও  এমপিওভুক্ত করেছি। ২০১৫ সাল পর্যন্ত কম পক্ষে ২০০টি  মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিম খানায় আর্থিক অনুদান দিয়েছি। ২০/২৫টি স্কুল কলেজে বার্ষিক ক্রীড়ায়  পুরস্কার, আর্থিক সাহায্য, ফ্যান, বেঞ্চ দিয়েছি। এখনও প্রতি মাসে বাগেরহাট-৪ এলাকার রোগি, গরীব ছাত্রদের সাহায্য করে থাকি।

কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের সবচেয়ে আলোচিত বড় ঘুর্ণিঝড় সিডরে আমাদের শরণখোলা ও  মোড়েলগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময় প্রথম শরনখোলার সাউথখালীতে বিশুদ্ধ  পানির ব্যবস্থা করি। ২ মাস যাবত এই ব্যবস্থা চালু ছিল। মাসব্যাপি মোড়েলগঞ্জ টাউন স্কুল ও  তাফালবাড়ীতে হোম তাবু দিয়ে ফ্রী চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করি। এছাড়া সাধ্যমত সিডরের সময়  নগদ টাকা, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসার জন্য কিচেন সেট- হাড়ি- পাতিল- প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি বিতরণ করি।

এছাড়াও আমাদের দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভার ১৮৯টি ওয়ার্ডে আমার বিচরণ সব সময়ই আছে। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সুখ দুঃখের খবর নিয়েছি যা এখনও  অব্যাহত রেখেছি।

কাজী মনির বলেন, আমি ঢাকাস্থ মোড়েলগঞ্জ কল্যাণ সমিতির শুরু থেকে শিক্ষা স¤পাদক, সমাজ  কল্যাণ, সাংগঠনিক স¤পাদক, যুগ্ম স¤পাদক, সাধারণ স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে  সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্বে আছি। আমি মোড়েলগঞ্জ -শরনখোলা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির  আহবায়ক। আজীবন সদস্য- মোড়েলগঞ্জ সমিতি, মোড়েলগঞ্জ ফাউন্ডেশন, বাগেরহাট সমিতি, খুলনা  সমিতি, মোড়েলগঞ্জ -শরনখোলা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি, ছাত্র ও যুব কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, সুর্যসেন এলামনাই, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার গ্রাজুয়েট, বাংলাদেশ বুক ক্লাব।  এছাড়া উপদেষ্টা বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।

কাজী মনির বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের

নির্বাচনের আগে। দেশনেত্রীর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি আন্দোলনে ওসমান ফারুক, আলতাফ হোসেন  চৌধুরী, মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সাথে সেদিন  আমরা প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয়ে ধাওয়া খেয়ে হাইকোর্টের ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে দোতলা  থেকে লাফ দিয়ে আমার পা ভেঙে যায়। তখন পুলিশের ছররা গুলিতে আমার পা ঝাজরা হয়ে যায়।  সেই ভাঙা পা নিয়ে এক বছর হাসপাতালে ছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, ভদ্র, ও মার্জিত স্বভাবের কাজী মনিরুজ্জামান বলেন,  আমি দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেছি। এছাড়া  পিএইচডিও করেছি। আমার স্ত্রীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছে। আশা করি  এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু  করে ২০১৪ সালের আন্দোলন পর্যন্ত আমার ত্যাগের কথা বিবেচনা করে নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন। তিনি যদি আমাকে মনোনয়ন দেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত   দল তথা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।

Please follow and like us:


(পরবর্তি সংবাদ) »



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial