ইন্দুরকানির পূজা মন্ডপে পবিত্র হজ্জ্বকে বিকৃত করে নাটিকা
জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার একটি পূজা মন্ডপে পবিত্র হজ্জ্বকে বিকৃত করে নাটিকা উপস্থাপন করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরে স্থানীয় মুসলমানদের প্রতিবাদে নাটিকাটি শেষ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে উপজেলার পত্তাশী-চরনী পত্তাশী সার্বজনীন পূজা মন্ডপে হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা উৎসবে মন্ডপ কমিটি একটি নাটিকার আয়োজন করে এবং নাটিকা উপস্থাপন কালে নাট্য শিল্পীরা মুসলমানদের পবিত্র হজ্জ নিয়ে বিদ্রুপ করে অভিনয় করেন। এসময় উপস্থিত মুসলমান দর্শকরা নাটিকাটি ভিডিও করে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে নাটিকাটি শেষ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়।
ওই পূজা মন্ডপে উপস্থিত কলেজ ছাত্র মাসুম ও হারেজ জানায়, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে পূজা মন্ডপ কমিটি হজ্জের বিষয়ে বিকৃত নাটিকা উপস্থাপন করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা প্রতিবাদ করে এবং নাটিকাটি বন্ধ করে দেয়।
এবিষয়ে পত্তাশী-চরনী পত্তাশী সার্বজনীন পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি মনি শংকর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কয়েকজন যুবক আমাদের না জানিয়ে নাটিকাটি উপস্থাপন করেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। পরবর্তীতে নাটিকাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, ওই পূজা মন্ডপে কতিপয় যুবকরা হজ্জের বিষয়ে বিকৃত নাটিকার উপস্থাপনের চেষ্টা করছিল খবর পেয়ে আমরা গিয়ে নাটিকাটি বন্ধ করে দিয়েছি।
পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার জানান, মুসলমানদের হজ্জ নিয়ে বিকৃত নাটিকা উপস্থাপনের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে পূজা মন্ডপ কমিটি সকল মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।
ইন্দুরকানী হিন্দু-বৈদ্য-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার শীল জানান, পূজা মন্ডপে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে নাটিকা উপস্থাপন করা একেবারে বেআইনী। আমরা দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। শুক্রবার মুসলামানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের বিষয়ে উপলব্ধি করে উপজেলা হরি সভার নেতৃবৃন্দ, হিন্দু-বৈদ্য-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ইন্দুরকানী থানার ওসি ঘটনা স্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।
