ইন্দুরকানীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে তুলে নিয়ে মারধর ॥ আটক-১
ইন্দুরকানী প্রতিনিধি :
জেলার ইন্দুরকানীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসার কোচিং ক্লাস থেকে তুলে নিয়ে এক ছাত্রীকে নির্যাতন করেছে বখাটেরা। আর এতে বাধা দিলে মাদ্রাসা সুপারকেও পিটিয়ে আহত করেছে বখাটেরা। বখাটেদের এ অপকর্মের বিচারের দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। এঘটনায় বখাটে রাসেল জোমাদ্দারকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার উপজেলার কলারণ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতি আক্তারকে (১৪)কে কলারণ গ্রামের সোবাহান জোমাদ্দারের ছেলে রাসেল জোমাদ্দার (২৮) তার সহযোগী স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আঃ হাই জোমাদ্দারের ছেলে নবিন জোমাদ্দার মাদ্রাসায় ঢুকে ক্লাস থেকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। এসময় তারা ওই ছাত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করলে ভয়ে সে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। তখন বখাটে রাসেল ওই ছাত্রীকে জাপটে ধরে তার গায়ের ওড়না টেনে নিয়ে যায় এবং অশোভন আচরণ করে। পরে ওই ছাত্রীর চিৎকারে মাদ্রাসা সুপার মোঃ সহিদুল ইসলাম মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে ও ওই ছাত্রীকে আহত করে। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা বন্ধ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জোমাদ্দারহাট বাজারে বখাটেদের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে।
খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন এবং অভিযুক্ত রাসেল জোমাদ্দারকে আটক করেন।
স্থানীয়রা জানান, রাসেল এর আগে তার মামাতো ভাই বেলালকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা খালেক জোমাদ্দার ও তার সন্তানদের মারধর করে। মোড়েলগঞ্জে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এলাকায় এসব নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ কারনে বেশ কিছুদিন জেল হাজতেও ছিল রাসেল।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মাদ্রাসা ছাত্রী জান্নাতি মোবাইলে জানান, রাসেল প্রায়ই পথে ঘাটে তাকে বিরক্ত করত। সে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে সাড়া না দেয়ায় বেদম মারধর শুরু করে এবং পড়নের পোশাক ছিড়ে ফেলে ।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার সহিদুল ইসলাম জানান, জান্নাতিকে কোচিং ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করে রাসেল নামে স্থানীয় এক যুবক। এসময় জান্নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে আমিও হামলার শিকার হই।
ইন্দুরকানী থানার ওসি নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত বখাটেকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
