অন্যরকম দুর্গোৎসব!
মঠবাড়িয়ার রাজদীপ ভবনে ৪০টি প্রতিমার পুজা
এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া :
‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ অর্থাৎ সকল অশুভ শক্তির নির্মূল করার জন্যই পৃথিবীতে প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। এ বছর দেবী দুর্গা আসছেন নৌকায় চড়ে, ফিরে যাবেন ঘোড়ার পিঠে। ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে এই দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছে। পূজা চলবে ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
মঠবাড়িয়ার সর্ববৃহৎ দূর্গা পূজা হিসেবে ইতিমধ্যে নাম ছড়িয়ে পড়েছে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী হালদার বাড়ির রাজদীপ ভবনের। সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় এক একর জমি জুড়ে বসানো হয়েছে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি। এ মন্ডপে দেব-দেবীর বিভিন্ন মূর্তি দিয়ে চার হাজার বছর পুরানো পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। মাট ৪০টি দেব-দেবী মূর্তি (প্রতিমা) নিয়ে চলছে এবারের আয়োজন।
পূজা মন্ডপের প্রধান ভাস্কর শিল্পী খুলনার কয়রা উপজেলার শংকর রায়ের সাথে একান্ত আলাপকালে প্রতিনিধিকে জানান, ৬জন কারিগর প্রায় দুইমাস কঠোর পরিশ্রম করে মন্ডপের প্রতিমার তৈরির কাজ সুনিপুনভাবে শেষ করেছি। আমার জানামতে এটিই উপজেলা বা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুজা মন্ডপ। তিনি আরও বলেন, দুর্গা পুজার অবিচ্ছেদ্য প্রতিমাসহ রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী ও দেব-দেবীদের প্রতিরূপসহ ৪০টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে কবুতরখালীর হালদার বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিল্পী ও কারিগরদের নিপূণ হাতে তৈরি প্রতিমায় চলছে অলংকার পরানোর ও আলোকসজ্জার কাজ। এ পুজা মন্ডপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হলো পুকুরের মধ্যে তুলে ধরা হচ্ছে ২৫ ফুট উচু টাওয়ারে প্রতিমার অংশ বিশেষ। এছাড়া পুকুরের মাঝখানে থাকছে নৌকায় চড়ে দুর্গা মায়ের আগমনের প্রতিচ্ছবি । যা ইতিমধ্যেই মুগ্ধ করেছে দর্শনার্থীদের মন।
পূজার আগেই এই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে আসা দর্শণার্থী উৎস হালদার বাবু জানান, উপজেলায় ছোট-বড় ৮৬টি পুজা মন্ডপ রয়েছে। তবে রাজদীপ ভবনের প্রতিমায় অসম্ভব সুন্দর কারুকাজ করা হয়েছে। এর আগে এতো বড় আয়োজন বা সুনিপুণ প্রতিমা, আলোকসজ্জা উপজেলার কোথাও দেখিনি।
হালদার বাড়ির দুর্গাপুজা উদযাপনের প্রধান আয়োজক শৈলেশ্বর হালদার বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগে এবার প্রথম এই মন্দিরে দূর্গাপুজা শুরু করতে গিয়ে এলাকার সকল ধর্মের মানুষের সহযোগীতা পেয়েছি। তিনি আর বলেন, সৃষ্টি কর্তার নৈকট্য লাভের জন্য এমন প্রচেষ্টা প্রতিবছর অব্যহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিন জানান, উপজেলায় ৪০টি প্রতিমা নিয়ে বড় আকারে পুজা উৎযাপনের খবর শুনেছি। প্রশাশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই রিরাপত্তঅর জন্য পুলিশকে নির্দেশ মেয়া হয়েছে।



