প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে সরকারি জমি ভাগ বাটোয়ারা || লাখ লাখ টাকা লেনদেনের গুঞ্জন

স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :

স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলা সদরের প্রানকেন্দ্র জগন্নাথকাঠি বন্দরের প্রায় কোটি টাকা মুল্যের সরকারি জমি প্রশাসনের যোগসাজশে গোপনে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। জগন্নাথকাঠি বন্দর প¦ার্শবর্তী শীতলার খালের ডুবো চরের আট শতাংশ জমি ১৬ জন ব্যক্তির নামে ভিটি (দোকান) হিসেবে বন্দোবস্তের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ওই ভিটি বরাদ্ধের ফাইল অত্যন্ত গোপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) বশির আহমেদ। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি তড়িগড়ি করে এখান থেকে রিলিজ হয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষনে বৃটেন চলে যান। এছাড়াও সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে ভুমি নীতিমালা উপেক্ষা করে সন্ধ্যা নদীর চরের প্রায় তিন একর মুল্যবান খাস জমি প্রভাবশালীদের নামে একসনা লীজ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব মুল্যবান জমির বন্দোবস্ত পেতে প্রশাসনের সাথে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আর সে কারনেই ভুমি অফিসের কর্মচারীরা ভিটি বরাদ্ধের তালিকাসহ অন্যান্য তথ্য দিতে দিনের পর দিন টালবাহানা করছেন।

স্বরূপকাঠি পৌরসভার পৌর মেয়র মোঃ গোলাম কবির জানান, তিনিসহ ৮ জন কাউন্সিলর বাজার খালের ডুবো চরের জমি থেকে ভিটি বরাদ্ধ না দেয়ার জন্য গত ২৯ আগষ্ট লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু উর্ধ্বতনদের দোহাই দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের সেই আপত্তি আমলে নেয়নি। অবশ্য পরে তিনি বাধ্য হয়ে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের মধ্যস্থতায় পৌরসভার আয় বর্ধনের স্বার্থে ৬ জন কমিশনারের নামে ৬টি ভিটি বরাদ্ধ নিয়েছেন। তবে বাকী ১০টি ভিটি কাদের নামে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে দাবী করেন মেয়র। এদিকে, মেয়রের ওই বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবী করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাঈদ। তিনি বলেন বিভিন্ন জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি জমি বিধি মোতাবেক বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। পানির নিচের খালের চর ভিটি হিসেবে বরাদ্ধ দেয়ার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ওই জমি আগে থেকেই বাজারের অংশ হিসেবে পেরীপেরী করা ছিল। তাই রাজস্ব আয় বৃদ্ধির স্বার্থে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়টিকে তিনি ভিটি না পাওয়াদের  অপপ্রচার বলে  দাবী করেন।

জগন্নাথকাঠি বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সম্পাদক মোঃ মহিব্বুল্লা হাওলাদার অভিযোগ করেন, খালের ওই ডুবো চর (যেখানে জোয়ারের সময় ৬/৭ ফুট পানি থাকে) যাদেরকে গোপনে ভিটি বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তারা কেউ দোকান ব্যবসায়ী নয়। তারা সবাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক। মহিব্বুল্লা বলেন জগন্নাথকাঠি বাজারের আধা শতাংশের একটি ভিটির মুল্য দশ থেকে ১২ লাখ টাকা। সুতরাং ব্যবসা না করেও দলবাজ নেতারা দোকান ঘরের মালিক হলেন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম মুইদুল ইসলাম বলেন ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারনের জন্য খাল ছাড়া কোনো যায়গা অবশিষ্ট নেই। তাই তিনি ওই বন্দোবস্ত বাতিল করার দাবী জানান।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial