হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্প বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে
শহীদুল ইসলাম :
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় হোগলাপাশা ইউনিয়নে ভূমিহীন ৬০টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্পে। পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর খেটে খাওয়া মানুষের দিন কাটে অভাব অনটনে। তাই তাদের শিশুদের লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা ও সামর্থ কোনটিই ছিলনা। দরিদ্র পরিবারের কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে হোগলাপাশা ইউনিয়নের কয়েকজন শিক্ষিত তরুন তরুনীর উদ্যোগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমে হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্প বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালটি গড়ে উঠে। এর ফলে দেশে শিক্ষা সম্প্রসারণ কর্মসূচীতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে শিক্ষানুরাগী, সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে হোগলাপাশা গ্রামে ৬ একর সরকারী খাসজমিতে হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তদারকি ও তত্ত্বাবধানে ৬০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়। উক্ত আশ্রায়ন প্রকল্পের এলাকায় ২/৩ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় ঐ বছরই হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্প বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে আশ্রায়ন প্রকল্পের আশপাশ এলাকায় আরও দুই শতাধিক পরিবার বসবাস শুরু করে। সে সময় উক্ত এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ হানিফ শেখ এর তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারী সংস্থার অর্থায়নে বিদ্যালয়টিপরিচালিত হতো। পরবর্তীতে এলাকার শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক-এর এক জরিপে জানা গেছে হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় বিদ্যালয়মুখী ২ শতাধিক শিশু রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে এবং শিক্ষিকা রহিমা আক্তার, রেক্সোনা আক্তার, মন্দিরা মিস্ত্রিসহ মোট ৪ জন শিক্ষক শিক্ষিকা নিরলসভাবে বিদ্যালয়ে পাঠদান করে আসছেন। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এবং আশ্রায়ন প্রকল্পের সভাপতি মোঃ হেমায়েত হোসেন হিমুসহ অন্যরা সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন ।
সম্প্রতি মোড়েলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ-ই আলম বাচ্চু হোগলাপাশা আশ্রায়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে শিক্ষা বিস্তারের এ মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এমনিভাবে এলাকার তরুন সমাজ শিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে এলে দেশে কোনো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। এ সময় তিনি বিদ্যালয়টিতে সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। হোগলাপাশা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ মফিজুল হক এবং বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ রেজাউল ইসলাম নান্না এ বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানা যায়।
বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সংগতি রেখে কোমলমতি শিশুদের অর্থ ব্যয় করে শিক্ষা গ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিনা বেতনে ও বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ পেতে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করা গ্রামবাসীর প্রাণের দাবী। আশ্রায়ন প্রকল্পের আশপাশে গড়ে ওঠা ২ শতাধিক পরিবারের প্রায় চারশত কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার পদক্ষেপকে আরও গতিশীল করতে বিদ্যালয়টিকে সরকারী বিদ্যালয়ে উন্নীত করলে হত-দরিদ্র পরিবারগুলোর ঝড়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে তারা মনে করেন।
