মঠবাড়িয়ায় ৬ ঘন্টার ব্যবধানে ২ লাশ উদ্ধার
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এক শ্রমিকের লাশ ৬ ঘন্টার ব্যবধানে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার গভীর রাতে উপজেলার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকের পাশ থেকে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান (৫৮) ও বড়মাছুয়ার ঠুটাখালী খালে বাঁধা জালের খুটির সাথে ভাসমান অবস্থায় শ্রমিক দুলাল পহলানের (৩৮) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত হাবিব উপজেলার উদয়তাঁরা বুড়িরচর গ্রামের মৃত ছত্তার তালুকদারের ছেলে এবং ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। দুলাল পহলান পশ্চিম রাজপারা গ্রামের আলী পহলানের ছেলে।
নিহত হাবিবের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫০ বছরের পারিবারিক বিরোধ, গত ইউপি নির্বাচনী জের, তুষখালী লঞ্চঘাটের আধিপাত্য নিয়ে ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদার এবং একই গোষ্ঠীর হাবিব তালুকদারের বিরোধ চলে আসছিল। তুষখালী বাজারে দুটি ক্লাবের আধিপাত্য ও সম্প্রতি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ চরম আকার ধারন করে। গত শনিবার হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে স্কুল ছাত্র রাকিব তালুকদারের সাথে প্রতিপক্ষ ফারুক তালুকদারের ছেলে সাইফুলের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ হয়। ওই বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে রাজীব ও তার সহযোগী সাইফুল তুষখালী বাজারের সাপ্তাহিক হাটের দিন রবিবার হাবিব তালুকদারকে প্রকাশ্যে মারধর করে। এ সময়ে হাবিব তালুকদারের ছেলে কলেজ ছাত্র হাফিজুর ও স্কুল ছাত্র রাকিব পিতাকে বাঁচাতে এলে রাজিব ও সাইফুলের দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে হাবিবেব দুই ছেলে পার্শবর্তী এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনার পর থেকে পিতা হাবিব তালুকদার নিখোঁজ হয়।
নিহতের ছোট ভাই শাহীন তালুকদার অভিযোগ করেন, রবিবার দুপুরে ভাই হাবিব তালুকদারকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদার ও তার ছেলে রাজিব, রুম্মান, সহযোগী সাইফুল, জুয়েলসহ ১০-১২ জনের সন্ত্রাসীদল তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে নিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
নিহতের স্ত্রী মালেকা (৫০) অভিযোগ করে বলেন, স্বামী হাবিব তালুকদারের খোঁজ না পেয়ে রবিবার বিকেলে মঠবাড়িয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে পুলিশ ডায়েরী নিয়ে কালক্ষেপণ করে। শেষে সোমবার রাতে লাশের খবর পেয়ে সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করেন।
অপরদিকে সোমবার রাতে উপজেলার বড়মাছুয়ার ঠুটাখালী খালে বাঁধা জালের খুটির সাথে ভাসমান অজ্ঞাত যুবকের লাশের পরিচয় মিলেছে। সে উপজেলার পশ্চিম রাজপারা গ্রামের মৃত আলী পহলাদের কাঠ শ্রমিক দুলাল পহলান (৩৮)। মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের ছেলে মামুন পিতার লাশ সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় লাশের পরিচয় না পাওয়ায় রাতেই মঠবাড়িয়া থানার এসআই নুর আমীন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম জিডি না নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুটি লাশই উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
