প্রধান সূচি

খুলনায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে অভিযান || প্রতিবাদে কোচিং শিক্ষক সংগঠনের সাংবাদিক সম্মেলন

খুলনা অফিস :

খুলনায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসেন ও ক্ষেমালিকা মহানগরীর বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন।

এদিকে প্রশাসন কর্তৃক কোচিং শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে কোচিং শিক্ষকদের সংগঠন খুলনা কোচিং সেন্টার অ্যাসোসিয়শন ও খুলনা কোচিং ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর অনুচ্ছেদ-২ এ বলা আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন শ্রেণি সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না। ৯ এ বলা আছে কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না। গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্কুল চলাকালীন সময়ে এ জেলায় কোনো কোচিং চলতে পারবে না। শনিবার এ ব্যাপারে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অভিযানকালে দৌলতপুরে অবস্থিত ইংলিশ টিউটোরিয়াল হোম সেন্টারে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। কিন্তু শিক্ষক অভিযানের কথা শুনে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেও শিক্ষককে হাজির করা যায়নি। পরে শিক্ষার্থীদের বের করে কোচিং সেন্টারটি তালাবদ্ধ করে নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে প্রশাসন কর্তৃক কোচিং শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে কোচিং শিক্ষকদের সংগঠন খুলনা কোচিং সেন্টার অ্যাসোসিয়শন ও খুলনা কোচিং ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন।

এদিন দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা কোচিং ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্যামল কুমার রায়।

খুলনা কোচিং সেন্টার এ্যাসোসিয়শনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কে. এম. এ. জলিলের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতা শ্যামা প্রসাদ রায়, অসিত কুমার, নির্মল কুমার রায়, শাহরিয়ার শামীম, রতন পাল, মুকুল রায়, জাহাঙ্গীর ইসলাম, বিজয় কৃষ্ণ সরকার, বিশ্বজিৎ নন্দি অপু, হিমাংশু কুমার বৈরাগী, সরজিৎ কুমার মন্ডল।

লিখিত বক্তব্যে শ্যামল কুমার রায় বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষিত বেকারের জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। খুলনায় কর্মসংস্থানের তেমন কোনো সুযোগ না থাকায় এখানে শিক্ষিত বেকারদের একমাত্র অবলম্বন হলো বাসায় বাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন কোচিংয়ে পাঠদান করানো। কোচিং সেন্টারগুলো কখনো কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের প্রতিপক্ষ বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। বরং কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial