পাঁচ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত
চিতলমারীতে মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে গাছপালা ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি
প্রদীপ মণ্ডল, চিতলমারী :
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মধুমতি নদীর ভাঙ্গন দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে প্রতিনিয়ত বিলিন হচ্ছে দোকানপাট, বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। গত ১৫ দিনের ভাঙ্গনে উপজেলার মধুমতি নদী সংলগ্ন শৈলদাহ গ্রামসহ আশপাশের অসংখ্য বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অবিলম্বে নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ও কলাতলা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীর ভাঙ্গন দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করেছে । এ পর্যন্ত ভাঙ্গনে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পৈত্রিক বসতবাড়ি হারিয়ে এখন বাঁচার তাগিদে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অন্যের বাড়িতে ও ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে রাস্তারার পাশের খাস জমিতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
এছাড়া বর্তমানে মধুমতি নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র ওয়াপদা ভেড়িবাদের রাস্তাটির কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে অনেক বাড়ি-ঘর। নদী ভাঙ্গন রোধে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসি । গত বৃহষ্পতিবার বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তারা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
ভাঙন কবলিত বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের বিধবা শরীফা বেগম কান্নাড়িত কন্ঠে বলেন, বাপ-দাদার কবরসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি কবর ও অনেক মূল্যবান গাছপালা, ঘর-বাড়ি এবং জায়গাজমি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এখন সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে তারা।
পরানপুর গ্রামের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত আঃ হাকিম মোল্লা, ইব্রহিম মোল্লা, আশরাফ আলী শেখ, তৈয়াব আলী শেখ, জাফর ফকির, হারুন ফকির, টিটু খলিফা, আয়ুব আলী, শহিল শেখসহ অনেকেই জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে তাদের ঘর-বাড়ি ক্ষেত-খামার সহ সব কিছু হারাতে হয়। ৪-৫ বার বাড়িঘর সরিয়েও শেষ রক্ষা পাননি। গত মঙ্গলবার থেকে আবার নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে এলাকায়।
এ ব্যাপারে বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার জানান, কয়েক বছর ধরে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে পরানপুর গ্রামের প্রায় ৫শত পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এই ভাঙ্গন থেকে পরিত্রাণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
