প্রধান সূচি

মংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলে ড্রেজারের সাথে কার্গো জাহাজের ধাক্কা || কার্গোর পাইলট, মাষ্টার ও কর্মচারীকে মারধর

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের মংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের রনবিজয়পুর এলাকায় ড্রেজারের সাথে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কা লাগায় ওই জাহাজের পাইলট ও মাষ্টারসহ সকল কর্মচারীকে বেদম মারপিট করে আহত করেছে ড্রেজারের ষ্টাফরা। ড্রেজারের ষ্টাফদের হামলা ও মারধরে গুরুতর আহত কার্গোর পাইলট এবং মাষ্টারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই রামপাল থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন জানান, মংলা বন্দরে থেকে সিমেন্টের কাচামাল ক্লিংকার বোঝাই করে এমভি গালফ-০৭ নামক একটি কার্গো জাহাজ ঢাকার নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের রনবিজয়পুর এলাকায় পৌছায়। এ সময় রনবিজয়পুর এলাকার সরু চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় চ্যানেলে খনন কাজে নিয়োজিত ড্রেজার মাতৃবাংলা’র সাথে ধাক্কা লাগে। ড্রেজারের সাথে ধাক্কা লাগার কারণে ওই ড্রেজারের লোকজন আশপাশের অন্যান্য ড্রেজারের লোকজন ডেকে জড়ো করে কার্গো জাহাজটি আটক করে জাহাজের পাইলট, মাষ্টারসহ অন্যান্য কর্মচারীদেরকে মারধর করে এবং জাহাজের গ্লাস ভাংচুর করে। এতে জাহাজের পাইলট স্বজল মল্লিক ও মাষ্টার মোঃ আজগর হোসেন গুরুতর আহত হয়। আহতদের তাৎক্ষনিক রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় স্বজল ও আজগরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ড্রেজারের সাথে সামান্য ধাক্কা লাগার ঘটনায় কার্গো জাহাজের লোকজনের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় কার্গোর ড্রাইভার রামপাল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ড্রেজারের লোকজনও রাতে থানায় আরেকটি অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পর থেকে নৌযান শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এ নৌপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের সময় খনন কাজে নিয়োজিত ড্রেজার ও পাইপ মুল চ্যানেলের বাহিরে রেখে কাজ করার সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ড্রেজারের লোকজন সে নির্দেশনা না মানায় এবং কার্গো জাহাজটি যাওয়ার সময় বার বার সিগন্যাল দেয়ার পরও ড্রেজারটি মুল চ্যানেল থেকে পাশের দিকে সরিয়ে না নেয়ার কারণেই সামান্য ধাক্কা লাগে। এতে তারা লোকজন নিয়ে কার্গোর জাহাজের সরকারী পাইলট, মাষ্টার ও ১২ জন কর্মচারীকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে আমরা এ রুটে অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘট দিতে বাধ্য হবো। তিনি আরো বলেন, ড্রেজারের লোকজনের অত্যাচারের কারণে কার্গো মাষ্টাররা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ায় এ পথ দিয়ে যাতায়াত করতে চাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আঃ রব বলেন, এটা মূলত আমাদের কোন বিষয় না। ড্রেজার ও কার্গো জাহাজ উভয়ই প্রাইভেট মালিকানাধীন। তারপরও বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন মিমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, ড্রেজার ও কার্গো জাহাজ উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিষ্পতির চেষ্টা চলছে।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial