পাঠ্যপুস্তকের পর এবার ছোট শিক্ষার্থীদের প্যাকেটজাত খাবারেও ভারতীয় সিরিয়ালের নাম
স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :
পাঠ্য পুস্তকের পর এবার ছোট সোনামনিদের পছন্দের চিপস প্যাকেটজাত করে তাতেও প্রচার হচ্ছে ভারতীয় ষ্টার জলসার একটি সিরিয়ালের নামসহ নায়ক নায়িকার ছবি। বিএসটিআই লোগো সমৃদ্ধ এগ্রো ফুডস এন্ড বেভারেজ লিঃ প্যাকেটে লেখা সম্বলিত কোম্পানি ভারতীয় খোকা বাবু সিরিয়ালের নাম দিয়ে চিপসটি স্বরূপকাঠী উপজেলা সদরে বাজারজাত করছে। ওই টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সিরিয়াল ‘খোকা বাবু’ রিং চিপস নাম দিয়ে নামের পাশে সিরিয়ালের প্রধান দু‘চরিত্রে নায়ক নায়িকার ছবি দিয়ে বাচ্চাদের আকৃষ্ট করে যেনতেন কোম্পানির চিপসগুলি বিক্রি করা হচ্ছে। প্যাকেটে লেখা ৬ টাকা মূল্য সম্বলিত এই যেনতেন রিং চিপস খেয়ে বাচ্চারা নানা রোগব্যাধিতে আক্রন্ত হচ্ছে। স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্টার গার্টেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে এসব চিপস বিক্রি হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা এসব চিপস কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।
স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুব্রত বলেন, এটা আসলেই খুব খারাপ বিষয়। এসব যেনতেন কোম্পানির চিপসের প্যাকেটে ভারতীয় এই সিরিয়ালের নামসহ নায়ক নায়িকার ছবি দিয়ে বিদেশী সংস্কৃতির প্রতি বাচ্চাদের উৎসাহিত করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। একই সাথে এটি একটি ঠকবাজির ব্যবসাও বলে মনে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের রূপা আট পাবলিসিটির সত্ত্বাধিকারী মোঃ আবুল কালাম বলেন, প্যাকেটে বিদেশী সিরিয়ালের নায়ক নায়িকার ছবি না দিয়ে আমাদের দেশের কোন ঐতিহ্যর ছবি দেয়া যেত। অথবা বড় কোন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির ছবিও দিতে পারতেন ওই কোম্পানির মালিক। এটা নিঃসন্দেহে তাদের একটা মূখ্যতা ছাড়া আর কিছুই না।
স্বরূপকাঠী উপজেলার সহকরী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, চিপসটার নাম খোকা বাবু না হয়ে, খোকা সোনা হতে পারতো। আর ওই চিপস কোম্পানির লোকেরা ওই সিরিয়ালের নায়ক নায়িকার ছবি না দিয়ে দুটি বাচ্চার ছবি দিতে পারতেন। অথবা আমাদের দেশের কোন জাতীয় জিনিসের ছবি দিলে অত্যন্ত শোভনীয় হতো। এটা তাদের একটা হীনমনমানসিকতা বলে মনে করা যায়।
উপজেলার সচেতন মানুষেরা মনে করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা বাচ্চাদের পাঠপুস্তকসহ খাবার-দাবারে বিদেশী সংস্কৃতি জাগ্রত করে নি¤œমানের জিনিস বাজারজাত করে যেমন একধারে লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি তেমনি তারা ধুলিসাৎ করে দিচ্ছেন আমার ইতিহাস সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এ থেকে বাঁচতে আমাদের পরিবার থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করা অতীব জরুরী।
