প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠী ভূমি অফিসকে  ঘুষ ও দালালমুক্ত করলেন এ্যাসিল্যান্ড বশির আহমেদ

স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :

স্বরূপকাঠী উপজেলা ভুমি অফিসকে ঘুষ ও দালালমুক্ত করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বশির আহমেদ। বিসিএস ৩১তম ব্যাজের এ কর্মকর্তা গত জানুয়ারী মাসে উপজেলায় যোগদানের পর থেকে ঘুষ লেনদেন এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তার কঠোর ভুমিকার কারণে অসৎ কর্মচারীরা যেমন আতংকিত, তেমনি চিহ্নিত দালালরা ভূমি অফিস আঙ্গিনায় ঢুকতেও সাহস পাচ্ছে না। কয়েকজন তহসিলদার অফিস খরচসহ উর্ধ্বতনদের পরিদর্শন খরচের বাবদ কিছু পয়সাপাতি রাখার জন্য প্রস্তাব দিলেও সে প্রস্তাব এ্যাসিল্যান্ড বশির দৃঢ়তার সাথে প্রত্যখান করেন। ঘুষের বিরুদ্ধে বশির আহমেদের কঠোর মনোভাবের কারনে দীর্ঘদিন ধরে এখানে কর্মরত তহসিলদারদের ভীত কেপে ওঠে। এমনকি নোটিশ জারির নামে পিয়নরা কোন টাকা পয়সা আনেন কিনা সে ব্যাপারেও তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় পিয়নরাও আতংকিত হয়ে পড়েন। ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ঘুষ প্রথা তিনি মাত্র কয়েক মাসে প্রায় বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। জমির নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে আসা ভূমিসেবা গ্রহণকারীদের সাথে সরাসরি কথা বলে তার সমাধান দেয়ারও চেষ্টা করছেন তিনি। আর এতে করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তরুণ আমলা বশির আহমেদ। অপরদিকে তার রুচিবোধেও রয়েছে ভিন্নতা। তিনি ভূমি অফিসের সবক‘টি রুমে টাইলস বসানোসহ নতুন আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়েছেন উপজেলা ভুমি অফিসকে। সরকারের ৫৭ হাজার টাকার বরাদ্ধ দিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সবক‘টি রুমে টাইলস বসানোসহ নতুন আসবাবপত্র দিয়ে পরিপুর্ন করেছেন। এছাড়াও ভূমিসেবা গ্রহণকারীদের বসার জন্য আলাদা একরুম বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মান করেছেন সহকারী কমিশনার। আর ওই ভবন নির্মান করতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পরিত্যাক্ত পুকুরটিকে কর্মচারীদের কাছে মাছ চাষের জন্য বার্ষিক ইজারা দিয়েছেন। পুকুর ইজারার প্রাপ্ত টাকা দিয়ে তিনি সেবা গ্রহণকারীদের বসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি কর্মচারীদের মাছ চাষে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আমিষ উৎপাদনে অবদান রাখছেন।

এ বিষয় গুয়ারেখা গ্রামের মোঃ হারুন শেখ বলেন গত বিশ বছরেও উপজেলা এ ভূমি অফিসে এত সৎ কর্মকর্তা তিনি দেখেন নি। সহকারী কমিশনারের এতসব উদ্যোগে আমরা সাধারণ মানুষ খুশী হলেও তার অফিসের এক শ্রেনীর অসৎ কর্মচারীরা মনে মনে ভীষন ক্ষুব্ধ।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) বশির আহমেদ বলেন, সরকার আমাদেরকে শ্রেনীমত সম্মানজনক বেতন ভাতা দিয়ে জনগনের কাজ করতে পাঠিয়েছেন। সুতরাং সততার সাথে জনগনের সেবা করা প্রত্যেক কর্মকর্তা, কর্মচারীর নৈতিক দায়িত্ব। আমার চেষ্টা থাকবে  সাধারণ মানুষ যেন সহজ উপায় ভূমিসেবা পেতে পারে এবং কোন প্রকার ভোগান্তির শিকার না হয়। তিনি বলেন আমি সে চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial