সেচ কাজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ
কন্ঠ রিপোর্ট :
সেচ কাজে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য পরীক্ষামূলকভাবে হাতে নেয়া হচ্ছে সৌরশক্তি ও পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক একটি প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বুধবার প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালে জুনের মধ্যে একল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কৃষি কাজে এখনও প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার হওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে অন্যদিকে দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ভূ-গর্ভস্থ পানির অপচয় হচ্ছে। সেচের পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তিগুলো কৃষকের দোঁড়গোড়ায় পৌছে দেয়া এখন সময়ের দাবি। সেচ কাজে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কলাকৌশল সম্পর্কে কৃষকদের জানানো এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কর্তৃক কৃষি প্রকৌশল প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্ম সংস্থান সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্পটি ২০০৫ সালের জুলাই হতে ২০১১ সালের জুনে বাস্তবায়িত হয়। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এর মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সেচ এলাকা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, সেচ খরচ ৩০ শতাংশ হ্রাস এবং উৎপাদন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি কর্রা সম্ভব হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিরূপ প্রভাবের প্রেক্ষাপটে কৃষি অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য খামার পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা ও খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রকল্পের মুল কার্যক্রম হচ্ছে, ১০০টি সোলার সেচ, ৫০০টি বারিড পাইপ সেচ, ৪০০টি ড্রিপ সেচ প্রদর্শনী স্থাপন, সোলার সেচসহ ১০০টি পাতকুয়া খনন, সেচ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ৪০০টি কৃষক মাঠ স্কুল, ৪০০ ব্যাচ কৃষক, ২০ ব্যাচ মেকানিক, ১০ ব্যাচ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, সেচ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ৫০ ব্যাচ কৃষক এর উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ এবং ৮০০টি মাঠ দিবসের আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির মাধ্যমে সেচ দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।
