স্বরূপকাঠির শহিদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের ফল বিপর্যয় নিয়ে দু‘টি কথা
মোঃ হাবিবুল্লাহ :
আমাদের দেশে কোচিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই! আমি সামন্য একজন ছোটখাট রিপোর্টার। আমার গন্ডি কেবল একটি উপজেলা। সম্প্রতি আমাদের শহিদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে দেশের শীর্ষ স্থানীয় দুটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ওই রিপোর্টে নিয়োগের নিয়ম অনিয়মের ব্যাপারে লেখালেখি হয়েছে। আমি ওবিষয়ে যাবনা।
আমি বলতে চাই এবছর এইচ,এস,সি ফল প্রকাশে নতুন মূল্যায়নে সঠিক ফল হয়েছে। একথা বহু বিশিষ্টজনেরা অকপটে বলেছেন। আমিও তাদের দলে। তবে, সেই প্রকাশিত এইচ,এস,সি ফলাফলে আমাদের স্বরূপকাঠির শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের এইচ,এস,সি ফলাফলে ৪টি এপ্লাসসহ পাশের হার মাত্র ৫০ভাগ। অর্থ্যাৎ, একশজনে ৫০জন শিক্ষার্থী ফেল। উপজেলার একসময়কার গৌরবগাথা এ কলেজের এইচএসসি ফলাফলে এটা যে, বড় ধরনের ফল বির্পযয় এটা যদি শীর্ষ স্থানীয় ওই সাংবাদিক মহাদয়ের নজরে আসত। না, আমি ওই সাংবাদিক মহাদয়কে কটাক্ষ করছিনা। আমিসহ উপজেলার লোকমুখে শোনা নিঃসন্দেহে তিনি একজন সাহসি সাংবাদিক। হঠাৎ করে কলেজের এই বড় ধরনের ফল বির্পযয়ের কারন অনুসন্ধান করে যদি আপনার সাহসি কলমের আচড়ে একটু লেখালেখি করতেন। তাহলে হয়তো সংশ্লিষ্টদের নজরে আসত। আমরা একটু উপকৃত হতাম। উন্নতি হতো কলেজটির। অভিভাবকরা পেত সস্থি। সম্মানিত সাংবাদিক মহাদয়/ উপজেলার রাজনৈতিক সচেতন মহদয়গনেরা আপনারা কি জানেন, এই কলেজে একজন মানবিক শাখার শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা পাশের আশায় প্রাইভেট পড়তে হয় চার বিষয়ে। আর একজন ব্যাবসা শাখার শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় পাঁচ বিষয়ে, বিজ্ঞান শাখার প্রাইভেটতো আছে ভুরি ভুরি।
একটি হাসপাতলের সামনে যেভাবে ব্যাঙের ছাতারমত ডায়াগনষ্টিকসেনটার ও প্যাথলজি সেন্টার থাকে। তদ্রুপ ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরসহ আশপাশে গড়ে উঠছে প্রাইভেট বানিজ্য। ব্যাবসায়িক ওই শিক্ষকতো হয়তো বোঝেনা; একজন রিক্সা চালক/ অটোচালক/ দিনমজুররে মাসিক আয় কত? তাদের পক্ষে কলেজে পড়–য়া তার সন্তানের জন্য ৫/ ৬টি প্রাইভেট পড়ার ব্যায় ভার বহন করা সম্ভব কিনা। আমি জানিনা, আপনাদের কাছে এটা ভাববার বিষয় কিনা। আমার কাছে এটা অতন্ত্য ভাবভার বিষয়। কারন, আমিও অতি সাধারন একজন পরিবারের সন্তান। তাছাড়া, যে কলেজে শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক হয় লাঞ্চিত, কলেজে একে অপরের উপর টিচিং ফাঁকির অভিযোগ এনে হয় শিক্ষক শিক্ষকে হাতাহাতি। ক্লাশের টিচিং ফাঁকি দিয়ে যেসব শিক্ষাঙ্গনে কিছু কিছু শিক্ষক ডুবে থাকে রাজনীতি চর্চায়; আবার কোন কোন শিক্ষক ক্লাশে এসে মূল দায়িত্ব এড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পর্কে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেকে বড় শিক্ষক হিসাবে জাহির করে প্ররোচিত করা হয় প্রাইভেটে। সেখানে পাশের আশায় শিক্ষার্থীরাতো আপনা আপনি প্রাইভেট পড়বেই। এটা কি শিক্ষার্থীদেরকে প্রাইভেট পড়তে প্ররোচিত করা হয়না? সেইসব শিক্ষাঙ্গন থেকে কতটুকু বা আশা করা যায় পরীক্ষার ফলাফলে।
এই প্রাইভেটবাজ শিক্ষকদের বা কি দোষ। তারা যদি প্রাইভেটে বসে জ্ঞানের সবটুকু শক্তি খুইয়ে ক্লাশে প্রবেশ করেন। সেখানে পাঠদানে সেই শিক্ষকের মনতো বসবেই না। আর আর বাকি সময়টুকুর কথা বলছেন। সে সময়ে সেই কোচিংবাজ শিক্ষকরা ডুবে থাকেন প্রাইভেটে শিক্ষার্থীদের জন্য শীট তৈরীর কাজে। আবার রাতের কোচিং ব্যাজকে কি পড়াবেন। তা নিয়েই বেশি ঘাটাঘাটি করেন। অর্থ্যাৎ মূল দায়িত্বে ষোল আনাই যেন ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা! তবে আমি নিশ্চিত, একদিন এই অবস্থা থেকে উত্তরন হবেই। ধরেন, একজন লোক সরতা দিয়ে সুপারি গাছে উঠে যখন মাথা পর্যন্ত উঠেন। তখন তিনি কিন্তু সেখানে ১৫ মিনিটের বেশি থাকতে পারবেন না। তখন তাকে নিচে নামতে হবেই। আর যদি কোন বেশি শক্তি সামর্থ্যবান লোক গাছের মাথায় বেশি সময় থাকতে চান, তাহলে তার গাছ থেকে নিচে নামার অবস্থা হবে ছ্যার ছ্যারিয়ে। তখন কিন্তু তার দু‘হাটুর চামরা উঠে যাবেই।
আর ক্লাশে লেইট করে আসা রাজনীতিবিদ ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের কথা বলছেন, আমি তাদের নিয়ে মন্ত্যব্যে করবো না। তাহলে হয়তো রোষানলে পড়ে আমার জীবনটাই বরবাদ হয়ে যাবে। তারাতো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কেহ যদি এই রকম কলেজের হালহালটের দৃশ্য স্ব-চোক্ষে দেখতে চান। তাহলে পরিচয় ও উদ্দ্যেশো গোপন রেখে সকাল সাতটা থেকে মাত্র দুপুর পর্যন্ত একবার মনিটারিং করলেই বোজার আর বাকি থাকবেনা। তাহলে সেই মনিটারিংয়ে ধরা পড়বে কিভাবে ঘটল শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজেরও বড় ধরনের ফল বির্পযয়। আর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশের কথা বলছেন? তাদেরতো সেকেলের একটা গদবাধা উত্তর আছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তারমানে আমার হয়তো আমার মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে তাদের খাবার ব্যাবস্থা করে দেয়া। ফলাফল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বড়জোড় একটা শোকজ করা। দায়িত্ব শেষ!
আমার ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য আবেদন রইল আপনাদের কাছে। কোন রাজনীতিবিদ, ব্যাক্তি/ প্রতিষ্ঠানকে আক্রমন বা উদ্দেশ্যে করে আমি কথাগুলো বলিনি। আমার চাওয়া হল; একপ্রকার আমার বললেও ভুল হবে। এ উপজেলার এ কলেজটির অধিকাংশ শুভাকাঙ্খিদের চাওয়া হল স্বরূপকাঠির শহিদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের হারানো নাম জস ফিরে এসে আরো নব উদ্যেমে কলেজটি শিক্ষার মানদন্ডে এগিয়ে থাকুক বিভাগের সেরা পর্যায়ে। তাহলে আরো বুক উচিয়ে বলতে পারবো আমিও ঐতিহ্যবাহী স্বরূপকাঠির শহিদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের ছাত্র।
