ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি হাতে ফার্মেসী দোকানী লাঞ্চিত
স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠীতে ডাক্তারের লিখে দেয়া ইনজেকশন না দিয়ে পাল্টে ক্রেতার কাছে ভিন্ন কোম্পানির ইনজেকশন বিক্রি করায় স্থানীয় এক ওষুধ প্রতিনিধির হাতে লাঞ্চিত হয়েছে এক ওষুধ দোকানী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দক্ষিণ জগন্নাথকাঠি বাজারের কামারপট্টি এলাকায় ওষুধ দোকানী মোঃ মামুন (৪০) ওষুধ প্রতিনিধি আরিফ আহম্মেদ মান্না (৩২) এর হাতে লাঞ্চিত হন। এ ঘটনায় পর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে চার ঘন্টা বাজারের সমস্ত ফার্মেসী বন্ধ করে জরুরী সভা করেন। স্থানীয় ওই ওষুধ প্রতিনিধি আরিফ আহম্মেদ মান্না ‘র্যাংস ফার্মার’ স্বরূপকাঠি মেডিকেল রিপ্রেনজেটেটিভ পদে চাকরী করছেন।
ওষুধ ব্যবসায়ী মোঃ মামুন হোসেন বলেন, একজন লোক একটি শিশু রোগীর জন্য তার ফার্মেসীতে ডাক্তারের লেখা ঙৎুী ৫০০ নামে একটি ইনজেকশন ক্রয়ের জন্য আসে। ওই ইনজেকশনটি ছিল রিপ্রেনজেটেটিভ আরিফ আহম্মেদ মান্নার কোম্পানীর প্রোডাক্ট। কিন্তু ওই ওষুধটি তার দোকানসহ বাজারের অন্য দোকানে পাওয়া যাচ্ছিল না। এজন্য ডাক্তারকে বলে নাম পরিবর্তন করে ভিন্ন কোম্পানীর ইনজেকশন দেই। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই মান্না এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ এক পর্যায়ে গায়ে হাত দেয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্বরূপকাঠী ওষুধ সমিতির সভাপতি এ জেড সিদ্দীকী বলেন, আমরা সভা করেছি। বিষয়টি আমাদের কেন্দ্রকে জানিয়েছি। তারা যা নির্দেশনা দিবেন সে অনুযায়ি আমরা পরবর্তী পদক্ষেপে নেব।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় কিছু অর্ধশিক্ষিত লোক নানা কোম্পানীর প্রতিনিধি হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে হাসপাতালে দাপিয়ে বেড়ায়। নিয়মকানুন উপেক্ষা করে হাসপাতাল চলাকালে এদের অবস্থান থাকে ডাক্তারকে ঘিরে বসে থাকা। আর রোগী আসলেই ডাক্তারের ব্যাবস্থাপত্রে নিজ কোম্পানীর ওষুধের নাম লিখানো। হাসপাতালের অফিস শেষে সর্বক্ষন এরা অবস্থান করেন জরুরী বিভাগে। সেখানে কোন চিকিৎসক তাদের ওষুধ না লিখলে কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হুমকি ধামকি দিয়ে তাদের ওষুধ লিখাতে বাধ্য করেন। আর কোন কোন ফার্মেসীর দোকানী দোকানে ওইসব ওষুধ না থাকলে পাল্টে ভিন্ন কোম্পানীর ওষুধ দিলেই স্থানীয় ওই সব ওষুধ প্রতিনিধিদের রোষানলে পড়েন ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
