কাউখালীতে ভাসমান বীজতলায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী :
কাউখালীতে কৃষকদের মধ্যে ভাসমান বীজতলা তৈরিতে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বন্যা, বৃষ্টি ও পানি এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে কাউখালীর বন্যাপ্লাবিত উপজেলায় কৃষকেরা কলাগাছের ভেলায় রোপা আমনের ‘ভাসমান’ বীজতলা করেছেন।
একটা সময় ছিলো কাউখালী উপজেলায় অনেক আবাদি জমি পতিত ছিলো। এখন আর কোনো জমি পতিত থাকে না বা কৃষকরা অলস সময় কাটান না। ক্ষেত পোকা মাকড়ের হাত থেকে বাঁচতে কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে জৈব সার- গাছের ডাল বা কঞ্চি দিয়ে পার্চিং লাগিয়ে পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেত রাখছেন সুস্থ সবল। তৈরি হচ্ছে ভাসমান ধান বীজ তলা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রোপা আমন মৌসুমে বন্যার সময় কৃষকরা যাতে চারা সংকটে না পড়েন সেজন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বন্যার পানি, পুকুর, ডোবা বা খালের পানির উপর কৃষকরা বাঁশের চাটাইয়ের মাচা বা কলা গাছের ভেলা বানিয়ে ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করছেন। এবছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভাসমান বীজতলা তৈরি হয়েছে।
শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের কৃষক শংকরপুর গ্রামের চাষী মোঃ সাবারেক খান বলেন ভাসমান বীজতলায় যে চারা হয়েছে তাতে তিনি ভীষণ খুশি এবং বন্যার কবল থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতে এধরনের বীজতলা স্থাপন করবেন এবং অন্যদেরকেও অনুপ্রাণিত করবেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার জানান, তৈরিকৃত ভেলায় প্রতি বর্গমিটারে ৮০-১০০ গ্রাম অংকুরিত বীজ ফেলতে হয়। পানির উপর ভাসমান থাকার কারণে এরূপ বীজতলায় পানি সেচের দরকার হয় না। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পরেই চারা রোপনের উপযোগী হয়ে যায়। এভাবে তৈরিকৃত ১ বর্গমিটার বীজতলার চারা দিয়ে ২০ বর্গমিটার পর্যন্ত রোপন করা যায় অর্থ্যাৎ ১ শতাংশ জমির চারা দ্বারা কমপক্ষে ২০ শতাংশ জমি রোপন করা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন,উপজেলায় বীজ সংকট পনই। আমন চাষাবাদ শুরু হয়েছে। সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতি জনিত কারণে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কৃষকদেরকে উদ্ভুদ্ধ করে কলা গাছের ভেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করছে।
