প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র এমপি ও আ’লীগ মুখোমুখি || যে কোন সময়ে সংঘর্ষের আশংকা

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :

পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এখন মুখোমুখি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা এলজিডির ৩০ কোটি টাকার কাজ না করে বিল উত্তোলনে এমপি’র জড়িত থাকার অভিযোগ এনে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একাংশ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যাপক তোলপার হয়। এরপর ফেইসবুক ষ্ট্যাটাসকে ঘিরে এমপি’র দায়ের করা ৫৭ ধারায় সাংবাদিক, যুবলীগ ও তাকে (এমপিকে) হত্যার চেষ্টার মামলায় আরও যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৩৮ জনকে আসামী করায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। নেতা-কর্মীদের নামে একের পর এক মামলা করায় এমপি’কে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ, মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যহত রেখেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন। এতে এমপি ডা. ফরাজী অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে সাংসদ ও আওয়ামী লীগ মুখোমুখি হওয়ায় যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশংকায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ৬ জুলাই এমপি ডা. ফরাজীকে ফেইসবুকে আপত্তিকর ও মানহানীকর তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করার অভিযোগে এমপি’র নিজ কলেজের প্রভাষক ফারুক হোসেন বাদী হয়ে দৈনিক সকালের খবরের সিনিয়র সাংবাদিক আজমল হক হেলাল ও এক যুবলীগ নেতা নূরুল আমীন রাসেলের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করলে ক্ষমতাসীন দলের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ওই মামলার পর গত ২৪ জুলাই স্থানীয় সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক সভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে ‘চোর-ডাকাত’ বলায় ডা. রুস্তম আলী ফরাজীকে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে আনেন।

এ ঘটনার পর সাংসদকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলার অভিযোগ এনে এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী মাসুম বিল্লাহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৩৮ জনকে আসামী করে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

এমপি’র হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী সাপলেজা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সওগাতুল আলম সুমন বলেন, ডা. ফরাজীকে লাঞ্চিত বা হামলা করা হয়নি। আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য তিনি এ মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।

ডা. ফরাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমানের বাড়িতে যারা ডাকাতি করেছে তাদেরকে আমি চোর-ডাকাত বলেছি। যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চোর-ডাকাত বলিনি।

অপরদিকে ফেজবুকে ডা. ফরাজীকে নিয়ে উস্কানীমূলক তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করায় এমপির মানহানির অভিযোগে তার অনুসারী বাদুরতলী গ্রামের মৃত মোতাহার আলীর ছেলে মোঃ শাহদাৎ হোসেন (৪৫) বাদী হয়ে গত ২৭ জুলাই রাতে ৫৭ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের করেন।  ওই মামলায় উপজেলার জরিপেরচর গ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে ও বেতমোর  ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বশির হোসেনকে (৩৭) আসামী করা হয়।

এদিকে যুবলীগ নেতা বশিরকে আসামী করায় আজ শনিবার বিকেলে উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ পৌর শগরে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভার করেন।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী শাহ্ নেওয়াজ বলেন, ইতিমধ্যে থানায় যে মামলাগুলো হয়েছে তা তদন্তাধীন রয়েছে। সকল প্রকার রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial