নাজিরপুরে দারিদ্রতার কারণে ৩ মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত
ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর :
পিরোজপুরের নাজিরপুরে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও দারিদ্রতার কারণে ৩ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলার গাওখালী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে লাকী আক্তার। তার বাড়ি উপজেলার দেউলবাড়ি ইউনিয়নের গাওখালী গ্রামে। ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে লাকি আক্তার তৃতীয়। লাকি আক্তার জানান, পিতা আব্দুল লতিফ শেখ একটি বেসরকারী কোম্পানীতে সামান্য বেতনে চাকুরী করে। তা দিয়ে ছোট ভাইয়ের লেখা পড়ার খরচসহ পরিবার চালাতে হয়। তাই তাকে স্থানীয় কিছু শিশুদের প্রাইভেট পড়িয়ে লেখা-পড়ার খরচ চালাতে হয়েছে। গত ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে লাকি আক্তার। লাকি আরো জানায়, ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার। কিন্তু অর্থিক অনটনের কারণে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সেই স্বপ্ন।
উপজেলার সদরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ইসরাত জাহান। তার বাড়ি জেলার সদর উপজেলার কলাখালী গ্রামে। ইসরাত জানান, পিতা জামিল হোসেন ঢাকায় একটি দোকানে সামান্য বেতনের কর্মচারী। তা দিয়ে পিতাকেই চলতে হয়। ২ ভাই-বোনের মধ্যে ইসরাত প্রথম সন্তান। ইসরাত আরো জানান, সকালে ঘুম থেকে ওঠে কয়েকজন শিশুকে প্রাইভেট পড়ায় সে। বাড়ি থেকে কলেজ অনেক দূরে হওয়ায় অর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত প্রায় ১৫/১৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে কলেজে যাতায়াত করতে হয়েছে তাকে। কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান তাকে নিয়মিত খোঁজ-খরব নেয়াসহ লেখা-পড়ায় উৎসাহ জোগাতেন। ভবিষ্যতে সরকারী কলেজের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করছে জিপিএ-৫ পাওয়া ইসরাত। পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তার উচ্চ শিক্ষা পুরোটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রী কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রলয় মালাকার। তার বাড়ি উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের লড়া গ্রামে। পিতা কালিপদ মালাকার একজন ভুমিহীন কৃষক। প্রলয় জানান, অন্যের জমি চাষ করে তাতে যে ফসল পাওয়া যায় তা দিয়ে কোন মতে নিজেদের সংসার চলে। আর লেখাপড়া খরচ জোগাতে তাকে মায়ের ওপর নির্ভর হতে হয়। প্রলয় আরো জানায়, তার কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম তাকে লেখা-পড়ার ব্যাপারে খোঁজ-খরব নেয়াসহ উৎসাহ জোগাতেন। তবে কলেজের রসায়ন শিক্ষক মৃদুল রায় তাকে প্রায়ই আর্থিক সহযোগিতাসহ বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়াতেন। প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তিসহ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া অসহায় প্রলয় মালাকার ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু অর্থিক অনটন তার সে স্বপ্ন পুরনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
