পাইকগাছায় কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে গড়ইখালীর ১০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ॥ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
পাইকগাছা প্রতিনিধি :
পাইকগাছায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে গড়ইখালী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। বীজতলা ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে গিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। সরকারী খাল যত্রতত্র বন্দোবস্ত দেয়া, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও সরকারী স্লুইচ গেট প্রভাবশালী ঘের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সোহরাব আলী সানা।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের বাসাখালী, গড়ইখালী, হুগলারচক, ফকিরাবাদ, কুমখালী, বাইনবাড়িয়া, কানাখালী, বগুলারচক, পাতড়াবুনিয়া ও শান্তা সহ ১০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ভেসে একাকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার চিংড়ি ঘের। তলিয়ে গেছে কয়েক’শ হেক্টর জমির আমন বীজতলা। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাটু পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে অসংখ্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
পশ্চিম গড়ইখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহ আলম ও রোকেয়া খাতুন জানান, স্কুলে আসার রাস্তা গত কয়েকদিন ধরে তলিয়ে গেছে। ফলে আশা যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে অনেক সময় বই খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।
শিক্ষক গোষ্ঠ বিহারী মন্ডল জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পেতে হচ্ছে। পানি কাদা পার হয়ে স্কুলে আসতে হয়। আর এ দূর্ভোগের কারণে স্কুলে উপস্থিতির হার অনেকাংশে কমে গেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাসন না হলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায় চরম ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।
গৃহবধু মোমেনা বেগম জানান, বসতবাড়ীর চারিপাশে পানি আর পানি, সারাদিন ঘরের মধ্যেই বসে থাকতে হয়। সাবেক ইউপি সদস্য এসএম আয়ুব আলী জানান, গড়ইখালী এলাকায় সরকারী কোন স্লুইচ গেট না থাকায় অত্র এলাকায় ইউনিয়নের সব থেকে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, পানি সরবরাহের সরকারী খালগুলো অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। অপরদিকে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য চিংড়ি ঘের করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারী স্লুইচ গেটগুলো প্রভাবশালী ঘের মালিকরা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব নানা কারণে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ১০টি গ্রামসহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।
সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সোহরাব আলী সানা বলেন, জলাবদ্ধতার এ বিষয়টি আমি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। অত্র এলাকা আমার জন্মস্থান হওয়ায় এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় গড়ইখালী ও বাসাখালী এলাকার অবৈধ বাঁধ ও নেট-পাটা অপসারণ করার মাধ্যমে পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাসন না হলে চলতি আমন ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
এদিকে জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে অবৈধ বাঁধ, নেট-পাটা অপসারণ করার মাধ্যমে পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করেন সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সোহরাব আলী সানা। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস, প্যানেল চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম কেরু, আওয়ামী লীগনেতা বিভূতি ভূষণ সানা, জিএম ইকরামুল ইসলাম, এসএম আয়ুব আলী, গাজী মিজানুর রহমান, আক্তার হোসেন গাইন, আক্তার হোসেন সানা, আজিজুর রহমান, বিএম শফি, বাবু গাইন, আব্দুস সাত্তার, তৌহিদুজ্জামান সম্রাট, জিল্লুর রহমান ও ছাত্রলীগ নেতা বাধন হাসান।
