ভান্ডারিয়া পৌর শহরের দশআনি পুকুরটি ময়লার ভাগাড়ে পরিনত || পানি ব্যবহার অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে
শংকরজিৎ সমাদ্দার :
জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরের পৌর শহরের শের ই বাংলা সড়ক সংলগ্ন দশআনি পুকুরটি যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়ে পড়েছে। কচুরিপানা, ময়লা আবর্জনায় পুকুরটির তিন দিক থেকে সংকুচিতও হয়ে পড়েছে। পুকুরের পানি ব্যবহার একেবারে অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। পানি দুর্গন্ধময় হয়ে পড়ায় পুকুর সংলগ্ন বাসা বাড়ি ছাড়াও পথচারীদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুকুরে পানি সংলগ্ন সড়কে পানি উঠলে পথচারীদের চলাচলে বিঘেœর সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, পূর্বে বাজারের আবাসিক বাসা বাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আশে পাশের মানুষ এ পুকুরের পানি ব্যবহার করে পানির অভাব পুরণ করত। এই পুকুরের পানি থেকে ভান্ডারিয়া বাজারে পরপর ১৭ বার অগ্নি সংযোগের দুর্ঘটনা থেকে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা বাজার রক্ষা করেছে। পুকুরের পানি দিয়ে মুসুল্লিরা ওজু করে সংলগ্ন মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করত বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ বাচ্চু মিয়া।
পুকুর লাগোয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ভান্ডারিয়া মদন মোহন জিউ মন্দিরের ভিবিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পানির অভাব পূরণ করা হতো।
পুকুরের সাথে পোনা নদীতে সংযোগ ড্রেন ব্যবস্থা থাকায় জোয়ার-ভাটার পানি ওঠা নামা করায় তখন স্থানীয়রা পুকুরে গোসলসহ সংসারের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করত এই পুকুরের পানি থেকে। এমন কি পুকুরের পানি ফিটকারি ব্যবহার করে সুপেয় পানির অভাবও পুরণ হতো। সেই ড্রেনের ওপর পাকা ভবন নির্মান হওয়ায় এখন আর জোয়ার ভাটার পানি ওঠা নামা করেনা। পুকুরের তিন দিকে পাকা ভবনের ময়লা পানির পাইপ সংযোগ এবং আবাসিক বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে পুকুরটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুকুর ভরাট করার জন্য স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করলেও বর্তমান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (এমপি)’র হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি। সরকারিভাবে পুকুরটি সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এ ব্যাপারে ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রবীণ সমাজসেবক আলহাব্জ মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার পুকুরটির বর্তমান হাল তুলে ধরে বলেন, এই যদি হয় পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্রের পুকুরের অবস্থা। তিনি এটি সংস্কার করে সংলগ্ন পোনা নদীর সাথে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি ব্যবহারের উপযোগি করে তোলার জন্য জোর দাবি জানান। ভান্ডারিয়া সদরে তিনটি পুকুর দশ আনি, ছয় আনি ও রিজার্ভ পুকুর এর মধ্যে ছয় আনি পুকুরটি ভরাট হয়ে সেখানে পাকা ভবন তৈরী হয়েছে। রিজার্ভ পুকুরটি সংস্কার হয়ে ওই সব এলাকার মানুষের পানির চাহিদা পুরণ করা হয়। বাকি দশ আনি পুকুরটি সংস্কার হলে সংলগ্ন আবাসিক বাসা বাড়ির গৃহস্থলি কাজের পানির অভাব দূর হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তাই তারা পুকুরটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানান। তা’নাহলে এ পুকুরটি ধীরে ধীরে ভরাট করে ফেলার আশংকা দেয়া দিয়েছে।
