প্রধান সূচি

মোংলার বৈদমারী বাজারে খাস জমিতে নির্মান করা হচ্ছে পাকা বিল্ডিং

এইচ এম দুলাল, মোংলা :
মোংলার বৈদমারী বাজারে সরকারের খাস জমি ইজারা নিয়ে ভূমি নীতিমালা না মেনে অনুমোদন ছাড়াই বেআইনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক দোকানপাটের নামে একতলা থেকে দুই, তিন তলা বিশিষ্ট পাকা বিল্ডিং। অবৈধভাবে এ স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভূমি অফিসের কতিপয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজসের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন বৈদ্যমারী বাজারে গিয়ে খোজ খবরে জানা যায়, উপজেলার চিলা ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে বৈদমারী বাজারের অবস্থান। প্রতি সপ্তাহে দ্ইুদিন এখানে হাট (বাজার) বসে থাকে। হাটকে কেন্দ্র করে সেখানে সরকারী খাস জমি ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩শ দোকান-ঘর। ইজারা নেয়া জমির সামনের অংশে দোকান ও পিছনের অংশে অনেকে পাকা বিল্ডিং এবং বাড়ী-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। খাস জমি ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী ওই জায়গায় অনুমতি সাপেক্ষে শুধু কাঠপাট দিয়ে টিনের ঘর ও সেমিপাকা টিন সেডের দোকান ঘর নির্মাণের শর্ত রয়েছে। কিন্তু সেই শর্ত উপেক্ষা করে কোন ধরণের অনুমোদন ছাড়াই ইজারা গ্রহীতারা তাদের ইচ্ছা মত একতলা থেকে দুইতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করে চলেছেন। বাজারের সুদীপ বিশ্বাস, বোরহান, জাহিদ সরদার, মিঠু ফকির, আসাদ সরদার, জাহাঙ্গীর মাতবর, আকবর, কবির, গনি, বাবুল সোহাগদল ও জাকির, রুহল, মিজান, আবজাল, সলেমান, এসকেন, রবিউল ও কামরুল হাওলাদারসহ ১৮/২০ জন দোকানদার অনুমোদন বিহীন এক ও দুইতলা বিশিষ্ট পাকা বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। এছাড়া আরো কয়েকজন নির্মাণ প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাজারের বাবুল সোহাগদল ও জাকির হোসেন অনুমোদন বিহীন একটি একতলা বিল্ডিংয়ের ছাদের ঢালাই দেন। অবৈধভাবে সরকারের খাস জমিতে বিল্ডিং নির্মাণ ও ছাদ ঢালাইয়ের খবর পেয়ে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে একজন তসিলদারকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সর্বশেষ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী বাবুল সোহাগদল ও জাকির বলেন, বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমি অফিসের কোন অনুমোদন তাদের নেই। তবে বিগত সময় অন্যান্যরা যেভাবে অনুমোদন ছাড়াই তুলেছেন আমরাও তাদের দেখাদেখি তুলেছি। বাজারের অপর দোকান মালিক মাসুম বলেন, আমি তো ৯/১০ বছর আগে বিল্ডিং নির্মাণ করেছি, তখন তো এত নিয়ম কানুন ছিলনা। নিয়মকানুন তো এখন দেখছি।
চিলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন হাট বাজার সভাপতি গাজী আকবর হোসেন বলেন, বাজারের অনুমোদন বিহীন বিল্ডিং নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যে ধরণেরই ব্যবস্থা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন আমি তাতে সহযোগিতা করবো।
মোংলা উপজেলা ভূমি জরিপ আমিন সমবায় সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী খাস জমি ইজারা নিয়ে সেখানে কাচা দোকানপাট, ঘর ছাড়া অন্য কোন ধরণের পাকা বিল্ডিং নির্মাণের সুযোগ নেই। বিল্ডিং নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ যখন তখন ইচ্ছে করলেই এগুলো উচ্ছেদ করে দিতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, বৈদ্যমারী বাজারে অবৈধভাবে পাকা বিল্ডিং নির্মাণের বিষয়টি তাকে অনেকে জানিয়েছেন এবং তিনি নিজেও খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছেন। এ বিষয়ে শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial