সুবিধাবাদীরা কখনও কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না ….. এ কে এম আউয়াল
ষ্টাফ রিপোর্টার :
পিরোজপুর-১ আসেনর এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল বলেছেন, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ সুবিধাবাদীরা কখনও কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায় এবং দলের আদর্শ তাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিয়ে পিরোজপুরে উপস্থিত হয়েছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পিরোজপুর গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে এক কর্মী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশাসনে যারা আছেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, আপনারা কোনো ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হবেন না। অনেক ত্যাগের ফলে পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত করেছি। সেই পিরোজপুর এখন মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে।
এর আগে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে পিরোজপুর ষ্টেডিয়াম মাঠে নামেন। এ সময় তাকে প্রথমেই ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান তার (এমপি আউয়াল) সেজ ভাই মজিবুর রহমান খালেক। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্লোগান এবং ফুল দিয়ে তাকে বরণ করেন। সেখান থেকে এমপি আউয়াল বৃষ্টির মধ্যে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পায়ে হেঁটে ষ্টেডিয়াম মাঠ থেকে সরাসরি পৌঁছেন গোপালকৃষ্ণ টাউন ক্লাব মাঠে।
ছোট ভাই পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেকের সাথে প্রায় দেড় বছরের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি শেষে তাকে দেখতে তিনি পিরোজপুরে আসেন বলে জানা গেছে।
টাউন ক্লাব মাঠে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এমপির ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সালেহ বাবুল।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এমপি আউয়াল তার আপন তিন ভাইয়ের সাথে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পরে ওই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নেয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এরই জের হিসেবে এমপি’র মেজ ভাই পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান মালেক, সেজ ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান মালেক এবং ছোট ভাই জেলা বাস ও বিনিবাস মালিক সমিতি এবং জেলা চেম্বার সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান মহারাজের সাথে এমপি আউয়ালের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক মহলসহ পিরোজপুরে গুঞ্জন ওঠে উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মালেক তার বড় ভাই এমপি আউয়ালের সাথে সব ভেদাভেদ ভুলে মিলে গেছেন। শহরে বিষয়টি ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হলেও অনেকের মনেই ব্যাপারটি খটকা লাগছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়।
তবে এমপি আউয়ালের অন্য দুই ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ও মশিউর রহমান মহারাজ বড় ভাইয়ের সাথে রয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, পিরোজপুরে এমপি আউয়ালের আগমন উপলক্ষে আইন শৃংখলা বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
