প্রধান সূচি

সৌরবিদ্যুতে আলোকিত প্রত্যন্ত কাউখালী

রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী :

সারাদেশের মানুষ যখন বিদ্যুতের লোডশেডিং বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ তখন কাউখালীর গ্রামীণ জনপদ সৌরবিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন আলোয় আলোকিত। প্রত্যন্ত গ্রামের পরিবারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ।

কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা, কচা ও কালীগঙ্গা নদীবেষ্টিত ইউনিয়নগুলোসহ অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামগুলো এখন সৌরবিদ্যুতের আলোয় এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। অনেক গ্রামের মানুষের কাছে বিদ্যুতের লাইন এখনও স্বপ্ন। তবে বিদ্যুতের সে অভাব পূরণ করে চলেছে সৌরবিদ্যুৎ। রাতের আাঁধারে গ্রামের পর গ্রাম আলোকিত করছে সৌরবিদ্যুতর আলো।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া নিভৃত পল্লীর যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন এবং বিদ্যুৎ নেই এমন এলাকা সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার পরিবারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো সূত্রে জানা গেছে, সরকারী ও বেসরকারী ভাবে সোলার প্যানেল সরবরাহ কওে থাকে। সৌর প্যানেল স্থাপনে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। কর্মীদের খবর দিলেই তারা বাড়িতে এসে প্যানেল স্থাপন করে দেন। খরচও তুলনামূলক কম। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ কিস্তির সুবিধা দিয়ে সৌর প্যানেল স্থাপন করে দিচ্ছে।

রাতে বাতি জ্বালানোসহ ছোট আকারের ফ্যান, মোবাইলে চার্জ দেয়া ও টেলিভিশন চালানোর মতো সুবিধা পাওয়ায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। তাছাড়া যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছতে এখনও সময়ের দরকার, ওই এলাকাগুলোতে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সবাই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু করেছে। শহরাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং চলাকালে আলোর চাহিদা মেটাতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া কাউখালী সড়কে বসানো হয়েছে অটো রোড ষ্ট্রীট সোলার প্যানেল লাইট।

১২ থেকে ১৪টি বেসরকারি সংস্থা কাউখালী উপজেলা সদর সহ প্রত্যান্ত গ্রামে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে কাজ করছে। ২০০৩ সাল থেকে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক, ব্রীজ, সৃজনী বাংলাদেশ ও পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, হিলফুল ফিজল, পাতাকুড়ি। উপজেলার ধাবড়ী, সোনাকুর, মেঘপাল, কেশরতা, আমরাজুড়ী, ডুমজুড়ী, বেতকা, হোগলবেতকা, হরিণধরা, বিড়ালজুড়ি, আশোয়া, বাশুরি, নাংগুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় চার থেকে পাচঁ হাজার গ্রাহক সৌরবিদ্যুতের আওতাধীন রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণন কর্মকর্তারা জানান, ১২ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে চাহিদা ও বিদ্যুৎ ক্ষমতা অনুযায়ী সৌরশক্তি স্থাপন করা হচ্ছে। মোট দামের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা এককালীন পরিশোধ করে বাকি টাকা ৩০ থেকে ৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ থাকায় সৌরশক্তি ব্যবস্থা গ্রাহকদের কাছে বেশ সুবিধাজনক ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠেছে। কাউখালীতে ১০ হাজারেরও অধিক পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। উপজেলার যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎহীন প্রত্যন্ত এলাকার জনসাধারণের মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আশোয়া আমরাজুড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন গাজী বলেন, গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। কবে আসবে তাও জানা নেই। তাই আমরা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছি। সৌরবিদ্যুৎ সুবিধার ফলে লোডশেডিংয়ের কোনো চিন্তা নেই। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে টেলিভিশন এবং ফ্যানও চালানো যাচ্ছে।

কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু বলেন, বিদ্যুতের সুবিধাবঞ্চিত প্রত্যন্ত গ্রামে সৌরশক্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রামের মানুষ এখন সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বাতি, ফ্যান, টিভি চালাতে পারছে। মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছে। তা ছাড়া সৌরবিদ্যুতে আলোকিত গ্রামগুলোতে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থারও উন্নতি হয়েছে। লোডশেডিং থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য শহর এলাকার অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial