মঠবাড়িয়ায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
টাকা ফেরত চেয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
মঠবাড়িয়ায় দুবাই এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অধিক মুনফা আশ্বাস দিয়ে হায় হায় কোম্পানি ও জমি বন্ধকী বাবদ এলাকার সহজ সরল নারী পুরুষের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। ওই অর্থ ফেরত চেয়ে ও জড়িত দম্পত্তির বিচার চেয়ে শনিবার বিকেলে মঠবাড়িয়ার সাপলেজা-পাথরঘাটা সড়কে ভুক্ত ভোগী বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।
মানববন্ধনে দুবাই প্রবর্সী ও সাপলেজা গ্রামের মোঃ বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগম এলাকার সহজ সরল গ্রামবাসীর কাছ থেকে অধিক লাভ দেয়ার আশ্বাসে গ্রহণকৃত ৩০ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার দাবী জানান। ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে পাওনাদার ছাড়া আরও এলাকার শতাধীক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে তিন রাস্তার মোড়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান, সাপলেজা বাজারের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন মোল্লা, মোসাঃ পারুল বেগম ও জাহানারা বেগম প্রমূখ।
ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, জমি বন্ধক রাখা বাবদ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কয়েক দফায় প্রবাসী স্বামীর অনুরোধে তার কাছ থেকে মুক্তা বেগম ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। মেয়াদ শেষে ওই টাকা চাইতে গেলে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে।
চড়কগাছিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৬) অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকেও অধিক মুনফা দেয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা নিয়ে ওই টাকা চাইতে গেলে মুক্তা বেগম বিভিন্ন লোক দিয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছে।
সাপলেজা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ মাহাবুবুর রহমান বাদল জানান, তার নিকট আত্মীয় রাজিয়া বেগমের কাছ থেকে মুক্তা বেগমের গ্রহণকৃত এক লাখ টাকা নিয়ে ফেরত না দিয়ে তালবাহানা করে।
একই অভিযোগ করলেন সাপলেজা গ্রামের মান্নান ভূঁইয়ার স্ত্রী অসুস্থ্য জাহানুর বেগম (৪২) জানান, তার কাছ থেকে দুই বছর আগে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও ওই টাকা ফেরত না দেয়ায় তার চিকিৎসা চলছে না।
শাহ্ আলম মোল্লার স্ত্রী পারুল (৪৫) অভিযোগ করেন, অধিক লাভের আশ্বাসে তার কাছ থেকে নেয় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তার স্বামী ফেরত না দিলে আমি মুক্তা ও তার স্বামী বেলায়েতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।
মুক্তার বাবা স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ ইউনুছ হাওলাদার (৬০) জানান, আমার মেয়ে যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছে তার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এতে আমার ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে। ইকবালসহ যাদের কাছ থেকে আমার মেয়ে টাকা নিয়েছে তা আমি এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যপারে মুক্তা বেগম মোবাইল ফোনে তার বিরুদ্ধে টাকা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন এর টাকা পরিশোধ করলেও তার কাছে রক্ষিত স্ট্যাম্প আমাকে ফেরত দেয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিরাজ মিয়া দুবাই প্রবাসী বেলায়েত ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগমকে প্রতারক দাবী করে বলেন, আমি বহুবার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গ্রহণ করা টাকা ফেরত দিতে বললেও তারা ফেরত দিচ্ছে না।
