প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় সুদখোরের ফাঁদে পড়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হারিয়ে পথে বসেছে গৃহবধূ মুক্তা বেগম

ষ্টাফ রিপোর্টার :

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রভাবশালী এক সুদখোরের ফাঁদে পড়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে এক গৃহবধূ। সুদখোর ইকবাল মোল্লা ও তার লোকজনের ভয়ে বর্তমানে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে মুক্তা বেগম নামের ওই গৃহবধূ।

মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা গ্রামের বাসিন্দা আবুধাবী প্রবাসী মোঃ বেলায়েত হোসেন মুন্সীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মুক্তা বেগম বৃহস্পতিবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুদখোর ইকবাল মোল্লার প্রতারণা ও হুমকীর কথা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তা বেগম জানান, একই গ্রামের বাসিন্দা আঃ জালিল মোল্লার ছেলে ইকবাল মোল্লার কাছ থেকে ২০১৫ সালে ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। এ সময় ইকবাল মোল্লা তার (মুক্তা) কাছ থেকে কয়েকটি সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ধারের টাকার সুদে আসল বাবদ মুক্তার কাছ থেকে ৮ লাখ আদায় করে নেয় ইকবাল মোল্লা। তবে সে সময় স্বাক্ষরকৃত ষ্ট্যাম্পগুলো ফেরৎ দেয়নি।

চলতি বছরের ২৪ মে তার (মুক্তা) অষ্টম শ্রেনীতে পড়–য়া মেয়ে সায়লা মনিকে স্কুলের যাওয়ার পথে জোর করে ইকবাল মোল্লা তার বাড়িতে তুলে নিয়ে কয়েকটি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।

সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে মঠবাড়িয়া আদালতে ইকবাল মোল্লার বিরুদ্ধে গত ১১ জুন একটি মামলা দায়ের করেছেন মুক্তা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইকবাল মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পর ঐ দিন বিকেলে সাপলেজা বাজারে মুক্তার পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে গৃহবধূ মুক্তা বেগম এবং তার পিতা ইউনুস মিয়াকে আপহরণসহ জীবননাশের হুমকী দেয় ইকবাল মোল্লা ও তার লোকজন। এ ঘটনায় গত ১৫ জুন মঠবাড়িয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে বলে জানান মুক্তা বেগম। তিনি জানান, সুদখোর ইকবাল মোল্লার শ্যালক মোঃ মিরাজ হাওলাদার সাপলেজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে সে (ইকবাল) এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সুদের ব্যবসা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে চলছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেহ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ইকবাল মোল্লার সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়নি। মুক্তা বেগম জমি দেয়ার কথা বলে লিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা নিয়েছে। এখন টাকা ফেরৎ না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মান

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের নামাজপুর এলাকায় একটি সড়ক উন্নয়নের কাজ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় চলাচলে জনসাধারনের চরম দুভোর্গ পোহাচ্ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর না দেওয়ায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজ করছেন।

সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্র এলাকার সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হেটে আমাদেরকে কলেজে যেতে হয়। এ সড়কের কোন তদারকারী প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমাদের মনে হয় না। শুনেছি ১৯৯৬ সালে সরকার এ রাস্তার নির্মাণ কাজটি করছে। তখন সড়কের এ অংশের প্রশস্ততা বাড়ানোর দাবি উঠেছিল। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial