প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় ঈদের বিকেলে দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি :

ভান্ডারিয়ায় সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় সকালে নতুন পোষাকে দেশের সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদগা মাঠে প্রধান প্রধান ঈদের জামাত শেষে বিভিন্ন বয়সী মানুষ একে অপরে আলীঙ্গন ও কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিয়ে শেষ হয় পবীত্র ঈদ উল ফিতরের দিনের শুরু। তার পর সামর্থ অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নাস্তা এবং মজাদার খাবারের ধুম চলে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পড়তে না পড়তেই দেশের বড় বড় শহরে চাকুরী করা বিভিন্ন পেশাজীবিরা ঈদের ছুটিতে নাড়ীর টানে বাড়ি আসা মানুষজন তাদের সন্তান, সন্ততি নিয়ে ঈদের বিকেলটা বিনোদনে কাটানোর জন্য বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান বা পার্কে ভিড় জমায়। বিকেলে কচাঁ নদীর শাখা পোনা নদী লাগোয়া ভান্ডারিয়া থানা পার্ক ঘুরে দেখা গেছে ভান্ডারিয়া উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে নৌ পথে ট্রলার, বড় নৌকা, সড়ক পথে মাইক্রো, প্রাইভেট এবং নিন্ম আয়ের মানুষেরা মিনি ট্রাকে করে দর্শণার্থীরা পার্কে ঘুরতে এসে তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতীরা তাদের বাহারি সাজে ঈদের দিনের সাজকে ধরে রাখতে স্বজনদের সাথে শুধু সেলফি আর সেলফি তুলছে। তাতে বাদ পড়েনি বয়স্করাও। সেলফির ফাকে ফাকে পার্কের কফি হাউজে কফি, আইসক্রীম এবং ভাসমান দোকানের ফুচকা, চটপটি, বাদাম, চানাচুর শিশু কিশোরদের খেলনার পাশা পাশি চিপস কিনে দিচ্ছে তাদের স্বজনরা।

পার্কে থাকা নান্দনিক ভাস্কর্যের সাথে সেলফি তোলা, শিশুদের কোলে নিয়ে তাদের অভিভাবকরা দোলনা এবং চড়কায় চড়ে সময় পার করছে। তবে পার্ক কতৃপক্ষ বলছে গতবছর বৈরী আবহাওয়া থাকায় দর্শণার্থী কম ছিল । এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় জন সমাগম বেশি এবং বিভিন্ন পেশাজীবিদের ছুটিও একটু বেশি থাকায় আগামী কয়েকদিন লোক আরো বেশি হবে। এদিকে পার্কে থাকা ১০টাকা টিকেটের ট্রেন এবং স্পিডবোর্ড বিকল থাকায় মন খারাপ অনেকের। তাই অনেকে তাদের শিশুদের বায়না রাখতে গিয়ে মিছে মিছি ট্রেনে চেঁপে বশে আছে। ট্রেনের ড্রাইভারের সিটে এক কিশোর বশে থাকায় যাত্রীরা ভাবছে এইতো ট্রেন ছাড়বে এখনই।

পার্কের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বনায়নের বিভিন্ন নান্দনিক গাছ থাকায় তার সাথে সেলছি তুলতে দেখা গেছে উঠতি বয়সী তরুন-তরুনীদের। পার্কের ভিতরে শাপলা চত্বরের চারি ধারে বিনোদন প্রেমি বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ আইসক্রীম, ফুচকা খাওয়ার ফাকে তা স্বরণীয় করে ধরে রাখতে চলছে সেলফি তোলা। পার্ক সংলগ্ন পোনা সেতুতে রিক্সা, অটো, টেম্পু জড়ো থাকায় দুরপাল্লার যানবাহন ব্রিজটি পার হতে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। ওই সময়টুকুতে মনেহয় যেন রাজধানী ঢাকার মত যানজট। যদিও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ওই ব্রিজটি সংলগ্ন আর একটি ঢালাই ব্রিজ নির্মানের প্রক্রিয়া চলছে বলে একটি সুত্র নিন্ডিত করেছে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করায় দুর দুরান্ত থেকে আসা দর্শণার্থীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করে। এবং স্থানীয়রা আরো কিছু সময় কাটানোর জন্য অপেক্ষা করে। কারন সারা বছর জীবন-জীবিকার প্রয়জনে উপজেলার বহু মানুষ বিভিন্ন কাজে দুর দুরান্তে এবং স্থানীয়রা তাদের ব্যবস-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই রকম সময় হয়না। ঈদ কোরবানি ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় তাদের বাড়তি সময় নাথাকায় ঈদ কোরবানির সময় টুকুই বিনোদনে কাটায়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial