প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার

এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া :

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে নতুন পোষাক। আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন পরেই পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। ঈদকে লক্ষ্য করেই মঠবাড়িয়ায় জমে উঠেছে ঈদের বাজার।

শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মাঝে আনন্দের শেষ নেই। সবাই এখন নতুন জামা কাপড়সহ নানা সাজগুজের কেনাকেটার জন্য ছুটে যাচ্ছেন গার্মেন্টসসহ কসমেটিক্স এর দোকান গুলোতে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনার ধুম। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণী বিতান পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। দম ফেলার সুযোগ নেই দোকানীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গতবারের চেয়ে এবার ঈদের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঝে মাঝে ক্রেতাশূন্য হয়ে পরে মার্কেটগুলো।

মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, লন্ডন সুপার সপ এন্ড বিউটি পার্লার, কে.এম লতিফ সুপার মার্কেটের এম.এম ফ্যাশন, কাপুড়িয়া পট্টি, লেপপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, ঈদে কেনাকাটা করতে আসা বেশির ভাগ ক্রেতাদের মধ্যে ছেলে, মেয়ে, মহিলা ও  প্রবাসী পরিবারের লোকজন বেশী। প্রবাসীদের পছন্দ হলেই তারা প্যাকেট বন্দি করছেন প্রয়োজনী সামগ্রী। এ ক্ষেত্রে দাম তাদের জন্য কোনো বিষয় না। অপরদিকে বিপাকে পড়েছেন সাধারন ক্রেতা। পছন্দসই পোষাক কিনতে গেলে বাজেটের চেয়ে অতিরিক্ত দামের কারনে কিনতে পারছেন না অনেকেই। অল্প বাজেট আর চড়া দামের ভিরেও ক্রেতারা সকল বিপনী বিতান গুলোতেও নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক খুঁজে বেড়ান। দোকানীরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সাজিয়ে বসেছে, বাহুবলী, সুলতান সুলেমান, ষ্টার জলসা, জি বাংলা, কালার বাংলা, ষ্টার প্লাসের মতো সিরিয়ালের বাহারী পোশাক।

এর মধ্যে মেয়েদের জন্য পাখি, বাহুবলী-০১, বাহুবলী-০২, লাচা, কিসকট, কিসমিত, শাহারা, কারিমা, নন্দ্রীনী, পানকৌড়ি, ফ্লোরটাচ, মিরা, নওশিন, রিমঝিম, সুইচফিল, চোরাবালী, মাসুকা, হানিবানি, কিরণমালা, ঝিনুকমালা, বোঝেনা সে বোঝেনা, অন্যতম।

মধ্যবয়স্ক নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় শাড়ী ও পাকিস্তানি বিভিন্ন থ্রীপিস। প্রতিটি পাখি থ্রী পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাচ্চাদের পোশাকের মধ্যে লুঙ্গি ডেন্স, পুরুষের মুসলিম কালেকশন সুলতার সোলেমান, কাতুয়া এবং নারীদের বাহা শাড়ি এবারের ঈদে নতুন আকর্ষণ। দাম একটু বেশি হলেও ক্রেতাদের পছন্দ সেদিকেই। ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দেশীয় ও ভারতীয় শার্ট, ডিজাইন শার্ট এবং বাহারী ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট ও পাঞ্জাবি।

কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষার্থী ফারিয়া জাহান ইন্নি জানান, এবার ভারতীয় পোশাকের দাম বেশী মনে হচ্ছে। তারপরেও ঈদুল ফিতরের উৎসব উপভোগ করতে বেশী দাম দিয়ে পোশাক ক্রয় করতে হয়েছে।

জেমিনেস ফ্যাশন কর্ণারের প্রপাইটর মাইনুল ইমলাম মঈন জানান, এবার মেয়েদের পছন্দের তালিকায় থাকা বাহুবলী-০১ ও ০২, পোশাক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়, লাচা, কিসকট, নন্দ্রীনী ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় এবং কিসমিত, শাহারা, কারিমা, ৫ থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাত রংয়ের ব্যবসায়ী ওলী গাজী জানান, ১০ রমজানের পর থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। এবছর বাচ্চাদের জন্য রাখি ও শারারা ড্রেস খুব বেশী বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া যুবতীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কুর্তি, ক্যাপাটা, গাউন, লেহেংগা ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের থ্রি-পিচ।

এদিকে টেইলার্সগুলোতে কারিগররা রাত গেজে পোশাক তৈরি করছে। নামীদামী টেইলার্সগুলো কয়েক দিন আগে থেকেই অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া কসমেটিক্সের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, ঈদে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং ক্রেতারা যাতে নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial