ইন্দুরকানীর একটি নিয়োগ পরীক্ষা
দুই নেতার ভাগাভাগি ॥ অতঃপর ফলাফল?
কন্ঠ রিপোর্ট :
ইন্দুরকানীর উপজেলা সদরসহ আনাচে কানাচে গত চার দিন ধরে একটি খবর নাকি গুজব অনেকের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর সে খবরটি হলো গত ১৭ জুন এ উপজেলায় অনুষ্ঠিত ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ দানের ইজারা নিয়েছেন দু’রাজনৈতিক নেতা। নেতাদ্বয় এক এক জন ছয়টি করে নিয়োগ ভাগ করে নিয়েছেন। এর জন্য পদপ্রতি ডাক উঠেছে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা করে। এ দুজনর একজন সরকারি দলের নেতা অন্যজন সরকারি জোটের শরিক দলের নেতা।
ইন্দুকানীবাসী এ খবরটির সত্যতা কেউ মানতে চান আবার অন্যরা বিশ্বাস করতে রাজি নন। যারা প্রথম দলে তাদের বক্তব্য অতীতে এ উপজেলার ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে। ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা মাসিক বেতনের এই ছোট্ট চাকুরীতে ৬-৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ডাক ওঠাকে যারা বিশ্বাস করেন তাদের দাবী হচ্ছে চার পাঁচ বছর আগে দু’একটি উপজেলা বাদে এ জেলার সর্বত্র ছিলো এই ধারা। যারা এটা মানতে চান না তাদের বক্তব্য সরাসরি, ইন্দুরকানী উপজেলায় আগে যাই ঘটুকনা কেন এখন সে অবস্থা আর নেই। যারা তখন এ ঘটনার সাথে যুক্ত ছিলেন তারা আর এ উপজেলার এ নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন করেন না। তাদের আদেশ নির্দেশও প্রতিপালিত হয় না। তাই গত ১৭ জুন এ নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছে। পিরোজপুর কন্ঠের অনলাইনে ইন্দুরকানী প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদটিতে যার প্রতিফলন বিদ্যমান ছিলো। সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিলো এভাবে-
“প্রকাশ্যে নিয়োগ পরীক্ষা দেখতে হাজারো দর্শক ও অভিভাবকের ভিড় : ইন্দুরকানীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের সাইকেল চালানো পরীক্ষা
ইন্দুরকানীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের সাইকেল চালানো পরীক্ষা দেখতে হাজারো লোকের ভিড়। গত শনিবার ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক দক্ষতা যাচাই ও সাইকেল চালানো দেখার জন্য এ উপজেলার নিয়োগে অপেক্ষমান ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী ৭০ জন প্রার্থীদের সাইকেল চালানো যোগ্যতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। এসময় প্রার্থীদের সরাসরি সাইকেল চালানো দেখতে নিয়োগ কমিটির সাথে প্রার্থীদের অভিভাবকসহ উৎসুক হাজারো জনতা ভিড় করে। উপজেলা পরিষদ মাঠে সাইকেল চালানো পরীক্ষা দেখতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল হুদা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পূরবী রানী দাস, উপজেলা জেপির সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার, কেন্দ্রীয় জেপি নেতা বাহাদুর হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক দুলাল, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সাইদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান ফকির, ইন্দুরকানী প্রেসক্লাবের সভাপতি এম. আহসানুল ছগির প্রমুখ। এর আগে উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৩জন দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাতে প্রকাশ্যে কোন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এবছর প্রকাশ্যে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হলে প্রার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে। দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুল হুদা জানান দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকাশ্যে সাইকেল চালানোসহ মূল পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা স্বচ্ছতার সাথে নিয়ে যোগ্য লোককে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এ সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর ইন্দুরকানীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে ইতি মধ্যে দু’ই নেতার ছয়টি করে পদ ভাগাভাগির খবর যারা বিশ্বাস করেন না তারা জোর দিয়ে বলছেন, এই দু নেতা ইতি মধ্যে হয়তো যার যার প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হস্তগত করেছেন ঠিকই। কিন্তু নিয়োগ বোর্ডের প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মনোভাব দেখে ওয়াকিবহাল মহলের মন্তব্য এ টাকা কোন ফল দেবে না চাকুরির ক্ষেত্রে। যারা টাকা দিয়েছেন তারা নিজ যোগ্যতায়ই চাকুরি পাবেন। সে ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্ব ভোগকারী এ নেতাদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে অভিজ্ঞ ব্যাক্তিদের পরামর্শ। কারন এ চাকুরির নিয়োগকর্তা বা তাদের উপর মহল স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই কাজটি করবেন- এটাই নিশ্চিত।
