স্ত্রীর অধিকার পেতে হিন্দু স্বামীর বাড়িতে অবস্থান মুসলমান নারীর
স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :
স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে নাটোরের আসমা বেগম (৩৫) নামের এক মুসলমান নারী গত ৭ জুন থেকে তার কথিত স্বামী বাপ্পি সিকদারের (২২) ঘরে উঠে বসেছে। আসমা বেগম সাখা সিঁদুর পড়ে তার নাম পরিবর্তন করে রাধারানি রেখে জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামে আসে।
এর পর থেকে বাপ্পি সিকদার গা ঢাকা দিয়েছে। তবে ঢাকা থেকে অচেনা মুসলমান নারী হিন্দু বলে পরিচয় দেয়ায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রুদ্রপুর গ্রামে উৎসুক মানুষের ভীড় জমেছে।
জানাগেছে, আসমা বেগম ওরফে রাধারানি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দুপল গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী এবং ৮ বছর বয়সী এক সন্তানের জননী। তিনি ঢাকা সাভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বসবাস করতেন।
আসমা বেগম ওরফে রাধারানিকে ঢাকা থেকে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার সাভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে বাপ্পি সিকদারের সাথে তার পরিচয় ঘটে। তারপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার একপর্যায়ে চার মাস আগে ধামরাইয়ের একটি মন্দিরে গিয়ে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে এবং বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর তারা একসাথে বসবাস করতে থাকেন।
তিনি আরো জানান, কিছুদিন আগে বাপ্পি তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে বাড়ি চলে আসেন। পরে তিনি উপায়ন্ত না পেয়ে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য স্বামীর গ্রামের বাড়িতে এসে উঠেছেন।
এ বিষয় বাপ্পি সিকদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি বাবা পরিমল সিকদারকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে বাপ্পির মা মিতা সিকদার বিয়ের ঘটনা সম্পূর্ন মিথ্যা বলে দাবী করে বলেন, তারা স্ব-পরিবারে সাভার এলাকায় থাকতেন এবং সে সময় ফাতেমা নামের এক গার্মেন্টস কর্মীর মাধ্যমে ফকির (ওঝা) হিসেবে এই আসমার সাথে তাদের পরিচয় হয় এবং মেয়ের বিয়ের জন্য তিনি আসমার কাছ থেকে তদবির (তাবিজ কবজ) নিতেন। সেই সুযোগে আসমা প্রতরণা করে তার ছেলের সাথে বিয়ের ঘটনা সাজিয়েছেন।
