প্রধান সূচি

ফরিদপুরে বাড়ী ও মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

নাজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর :

ফরিদপুরে বাড়ী ও মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় নাজিরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও শেখমাটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শেখ আবুল বাশার, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার শেখ আব্দুল লতিফ ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ খান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন মিয়া নাজিরপুর যোগদানের পর থেকে তার বাড়ী ফরিদপুরে এবং এক মন্ত্রী তার মামা এই পরিচয় দিয়ে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একর পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছে। নাজিরপুরের কিছু দালালের মাধ্যমে তিনি এ অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করছেন এবং সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছেন। সম্প্রতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) ১ কোটি ৬ লাখ টাকার টেন্ডার কমিশনের মাধ্যমে তার পছন্দের ঠিকাদারদের পায়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে একত্রে টেন্ডার না দিয়ে তিন ভাগে ভাগ করে টেন্ডারটি আহবান করেন। প্রথম ধাপে ৩০ লাখ টাকার কাজে মুন্না এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শতকরা ১০ ভাগ লেজ দেয়া সত্ত্বেও তাকে কাজ না দিয়ে কমিশন গ্রহণপূর্বক জালিয়াতির মাধ্যমে সমধরে তার পছন্দের ঠিকাদারদের পাইয়ে দেন। এতে করে সরকার ৩ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। এছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) অর্থায়নে উপজেলার মাটিভাঙ্গা বাজার মসজিদের একটি ঘাটলার জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। উপজেলার এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই ঘাটলার কাজ পেয়েও কোন প্রকার কাজ না করে প্রকৌশলী জাকির হোসেন মিয়ার সহায়তায় বিল উত্তোলন করে টাকা ভাগাভাগি করে আত্মসাত করেছে।

ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সংযোগ সড়কে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামে স্বপন দাড়িয়ার বাড়ীর সামনের খালের ওপর এলজিইডির অর্থায়নে ১ কোটি ৭০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণে ডিজাইন জালিয়াতি করে ওই ব্রীজের ২০ মিটার গভীরতার ৫৬টি পাইলিংয়ে প্রতিটিতে ২০ এমএম ও ১২ এমএম এর পরির্বতে ১৬ এমএম ও ৮ এমএম রড ব্যবহার করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ওই  ব্রীজ সংশ্লিষ্ট রাস্তার মাটির কাজ নিয়মানুযায়ি না করে প্রায় ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের পায়তারা করছে ওই প্রকৌশলী। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজ কর্মস্থল এলাকায় কৌশলে ঠিকাদারী ব্যবসাও করে যাচ্ছেন দালাল চক্রটির সহায়তায়।

এছাড়া উপজেলার ৩০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বিদ্যালয় প্রতি দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ সংস্কারের কাজ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক করার কথা থাকলেও প্রায় সকল বিদ্যালয়ের সংস্কারের কাজ প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সহায়তায় স্থানীয় সরকার দলীয় নেতারা করেছেন। ওই কাজ নামমাত্র করে প্রায় অর্থকোটি টাকা লুটপাট করেছে প্রকৌশলী জাকির ও তার দালাল চক্রটি। এছাড়া এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উপজেলার নাওটানা ব্রীজটি বিগত দুই বছর পূর্বে একটি বালুর জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে ওই সময় স্থানীরা জাহাজটি আটক করে। পরে ব্রীজটি মেরামতের জন্য জাহাজ মালিকের কাছে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হলেও ব্রীজ মেরামত না করে ওই টাকা আত্মসাত করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তাৎক্ষণিক মেরামত না করায় কয়েক মাস পরে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। বর্তমানে  ব্রীজটি না থাকায় ওই এলাকার হাজার-হাজার মানুষ কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial