ইউপি সদস্য সোহেল খানের অত্যচারে অতিষ্ট গ্রামবাসি || মোড়েলগঞ্জের চিংড়াখালীতে চাঁদার দাবীতে হামলা-ভাংচুর : আহত ২০
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নে চাঁদা টাকা না দেওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠা হামলা-ভাংচুর ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য সোহেল খান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার দুপুরে চিংড়খিালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে। এ সময় সোহেল খান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ধারালো দায়ের কোপ ও মারপিটে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। ঘটনার পর মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। গুরুত্বর আহতদের উদ্ধার করে মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত আরমান দিহিদারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং শামীম শেখকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলো, আরমান দিহিদার, আলকাস হাওলাদার, নজরুল দিহিদার, শিল্পি আক্তার, রুমান শিকদার, জাকির শিকদার, লুৎফর রহমান, দেলোয়ার শিকদার, বেলায়েত হোসেন মোল্লা, তানিয়া বেগম শিল্পী, হাফিজা বেগম, আনজিরা বেগম, মান্নান হাওলাদার, শামীম শেখ।
সন্ত্রাসীদের মারপিটে গুরুতর আহত শামীম শেখ, আরমান দিহিদার, শিল্পি আক্তারসহ স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসি জানান, সম্প্রতি চিংড়িখালীর নারিকেলবাড়িয়ো বাজারের সার ব্যবসায়ী আলকাস হাওলাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্য সোহেল খান। এই চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ধারালো অস্ত্রসহ সোহেল তার সন্ত্রাসী বাহিনী আলকাস হাওলাদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় আলকাস হাওলাদারের পরিবারের লোকজনসহ বাজারে থাকা লোকজন ঠেকাতে গেলে সোহেলসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী সামনে যাকে পেয়েছে বেপড়োয়াভাবে তাদের কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্ব আহত করে। এসময় শামীম সেখসহ এলাকার কয়েকজন সোহেলের সন্ত্রাসী তান্ডবের প্রতিবাদ করলে সোহেল খান ও তার বাহিনীর লোকজন শামীম সেখকে হাতুড়ি ও বাঁেশর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তারা শামীস সেখের মাথার চুলও কেটে দেয়।
এ সময় সোহেল বাহিনী বাজারের আলকাস হাওলাদারের সার ও মুদির দোকান এবং লুৎফর রহমানের মুদি মনোহারীর দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে।
স্থানীয় গ্রামবাসি আরো জানান, ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা সোহেল খানের বিরুদ্ধে মোড়েলগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজি, ঘের দখলসহ কমপক্ষে ১০টি মামলা রয়েছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যচারে গ্রামবাসি অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। সোহেল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। এলাকার সাধারন মানুষের মৎস্য ঘের দখল, জায়গা দখল, জোর করে অন্যের গাছ কেটে আত্মসাতসহ এমন কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নেই যে সোহেল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী করে না। চিংড়াখালী বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানীদের সোহেল ও তার বাহিনীকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ ঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
