রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এডভোকেট আলী হায়দার খানের দাফন সম্পন্ন
ষ্টাফ রিপোর্টার :
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ৬০’র দশকের প্রখ্যাত ছাত্র নেতা, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট আলী হায়দার খানকে পিরোজপুরে পৌর গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জোহর নামাজবাদ পিরোজপুর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের ঈদগাহে মরহুম আলী হায়দার খানের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পিরোজপুর জেলা জজশীপ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভার মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মরহুমের কফিনে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করে এবং জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
এরপর মরহুমের জানাজা নামাজে অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এমপি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল (মরহুমের শ্যালক), জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ, পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন, পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান খালেকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পিরোজপুর শহরবাসী।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ভোর রাতে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে এডভোকেট আলী হায়দার খান ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস ও কিডনী জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
ছাত্র রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আলী হায়দার খান পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থেকে আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (জহরুল হক) ছাত্র সংসদে ১৯৬৩ সালে জিএস ও ১৯৬৫ সালে ভিপি নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি নিরাপত্তা রাজবন্দী হিসেবে জেল হাজতে ছিলেন। ৭০’র নির্বাচন থেকে দলীয় সিদ্ধান্তে মোজাফ্ফর ন্যাপের সদস্য হয়ে পিরোজপুরে ৮০’র দশক পর্যন্ত রাজনীতি করেছেন।
১৯৮৬ সালে পিরোজপুর-১ আসনে ৮ দলীয় প্রার্থী হয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেন এবং পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। শেষ জীবনে তিনি ঢাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন।
