স্কায়ারের এ্যালমেক্স ওষুধের বোতলে কাঠের গুড়া !
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
দেশের নামিদামী ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান স্কায়ারের এ্যালমেক্স কৃমিনাশক ওষুধের বোতলের মধ্যে কাঠেরগুড়া আকৃতির ময়লা পাওয়া গেছে। আর এটা যাচাই-বাছাই ও ব্যবসায়ীকে ফেরত দিতে এসে ঔষধ কোম্পানীর লোকজনের হাতে ক্রেতা হলেন লাঞ্ছিত। ওই কোম্পানীর ম্যানেজার ক্রেতাকে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দিলেন।
আজ রবিবার দুপুরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৌর শহরের ফার্মেসী রোডস্থ আরিফ মেডিকেল হল নামে একটি ওষুধের দোকানের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
ভূক্তভোগী মনিরুজ্জামান হাওলাদার জানান, আমি গত ৩ দিন আগে আমার দুটি শিশু বাচ্চাকে (১৬ মাস ও ৫ বছর) কৃমিনাশক ওষুধ খায়ানোর জন্য আরিফ মেডিকেল হল থেকে এ্যালমেক্স নামের দুটি ওষুধের বোতল ক্রয় করে বাসায় নিয়ে রাখি। ২ জুন শুক্রবার রাতে শিশুদের ওষুধ খাওয়ানোর জন্য একটি বোতলের মুখ খুলে দেখি কাঠেরগুড়ো আকৃতির ময়লা। এরপর অপর বোতল খুলে দেখি ঔষধ ঠিক আছে। মেয়াদের দিকে তাকিয়ে দেখি সেটাও ঠিক আছে, তারপরেও মনে সন্দেহ থেকে গেল। সকালে ওই দোকানে ওষুধ ফেরত দিলাম। দোকানী আরিফ আমাকে ওষুধ পরিবর্তন করে ভালো দুটি বোতল দিলেন। সাথে সাথে আরিফ ওষুধ কোম্পানীর লোকজনদের সংবাদ পাঠালেন। দুপুরের দিকে স্কয়ার ওষুধ কোম্পানীর সেলসম্যান নিজাম উদ্দিন ও এরিয়া ম্যানেজার আবুল কালম আজাদ ওই ফার্মেসীতে আসলে আরিফ আমাকে তার দোকানে যাওয়ার জন্য মোবাইল করেন। আমি সেখানে গিয়ে কোম্পানীর লোকজনদের কাছে জানতে চাই এগুলো নষ্ট আপনারা খেয়াল করবেন না? এগুলো খেলে পরে বাচ্চা তো মারা যেতে পারতো ? এসময় সেলসম্যান নিজাম উদ্দিন আমার সাথে চড়া ভাষায় কথা বলেন। এরিয়া ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলে আপনি বাড়িতে বসে এগুলো বোতলে ঢুকিয়ে নিয়ে এসেছেন। আপনাকে এখন পুলিশে ধরিয়ে দেব। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন দোকানীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আরিফ মেডিকেল হলের স্বত্তাধিকারী মোঃ আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওষুধে হয়তো বা হাওয়া ঢুকে নষ্ট হতে পারে। এজন্য কোম্পানীর লোকজনদের থাকবে শান্তনামূলক কথাবর্তা। কিন্তু সেলসম্যান নিজাম উদ্দিন ও এরিয়া ম্যানেজার আবুল কালম আজাদ যেটা করেছেন সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এরিয়া ম্যানেজার আবুল কালম আজাদ বলেন, আমাকে ওষুধের বোতলে কাঠেরগুড়ো আকৃতির ময়লা দেখানো হয়েছে। আমরা তো চাকরি করি, আমরা ঔষধ তৈরী করি না। কিভাবে এটা হলো তা আমাদের জানা নেই। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাবো। ক্রেতা মনিরুজ্জামানকে পুলিশে দেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি আমার ওপর দু’বার হামলার চেষ্টা করেছিলেন।
