মোল্লারহাটে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের মোল্লারহাটে একটি আলোচিত ধর্ষন মামলার জের ধরে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। এদিকে স্পর্শকাতর ওই মামলাটিকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেসী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মত এলাকায় ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে বলে এলাকাবাসী দাবী করেছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে মুক্তি পেতে অসহায় ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসি জানান, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে মোল্লারহাট উপজেলার শোলাবাড়িয়ো গ্রামের সোবহান মোল্লা নামে এক ব্যক্তির ছুরির আঘাতে ওই গ্রামের এক হিন্দু গৃহবধুর পায়ের কিছু অংশ কেটে যায়। এ ঘটনার পর সোবহান মোল্লার নামে ধর্ষনসহ দুটি মামলা হলে সোবহান মোল্লা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এখনও পলাতক রয়েছে। ওই মামলায় চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ওই গৃহবধু বাগেরহাট আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হন। এ ঘটনায় সোবহান মোল্লা ওই গৃহবধুকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আসামী করা হয় সোবহান মোল্লার চাচা শোলাবাড়িয়ো গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তোতা মোল্লা (৬০) ও তার ছেলে রানা মোল্লাকে (২৬)।
মুক্তিযোদ্ধা তোতা মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোবহান মোল্লারা আলাদা সংসারে বসবাস করেন। তাদের সাথে দীর্ঘদিন কোন সম্পর্ক নেই। আমরা কাজকাম করে কোন রকমে সংসার চালাই। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আমাদের এই মামলায় আসামী করেছে একটি মহল।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ এমন একটি মিথ্যা মামলায় জেল খেটে কবরে যেতে হবে তা কখনও ভাবিনি। তদন্ত করে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে আমাকে ফাঁসি দেয়া হোক। তাতেও আমার আপত্তি থাকবে না। কিন্তু এ রকম একটি মিথ্যা মামলার বোঝা আমার উপর চাপানো হয়েছে, এই বৃদ্ধ বয়সে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে ধিক্কার দিতে হচ্ছে হয়।’
সোবহান মোল্লার ভাই ইসমাইল মোল্লা বলেন, আমরা কৃষি কাজ করে কোন রকমে খেয়ে পরে জীবন জাপন করি। সোবহান মোল্লাকে ওই নারীই নষ্ট করেছে। ওই বাড়িতে সে দিনরাত পড়ে থাকত যা এলাকাবাসি সকলেই জানে। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কি ঘটেছিল তা আমরা জানি না। তবে পরে হত্যার চেষ্টা মামলায় আমাকেও আসামী করা হয়েছে। স্থানীয় মনির মুন্সি নামক এক লোক আমাদের কাছে মামলায় না দেয়ার জন্য টাকা চেয়েছিল। টাকা না দিতে পারায় এই মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে।
ওই গৃহবধুর স্বামী প্রকাশ মজুমদার জানান, মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় ওইদিন তিনি ও মনির মুন্সি একটি মটর সাইকেলে এবং তার স্ত্রী ও মটরসাইকেল চালক রমজান মুন্সি অপর মটর সাইকেলে ছিলেন। চাঁদেরহাট নামক স্থানে পৌছালে পিছন দিক থেকে একটি পিকআপ ভ্যান তার স্ত্রীকে বহনকারী মটর সাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধারনা করা হচ্ছে প্রতিপক্ষরা তার স্ত্রীকে হত্যা করতে একটি ট্রাক দিয়ে ধাক্কা দিয়েছে।
কেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নামে মামলা দেয়া হলো জানতে চাইলে ওই নারীকে সহায়তাকারী স্থানীয় মনির মুন্সি বলেন, ঘটনার দিন ওই পরিবারের উল্লাস দেখে তাদের আসামী করা হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান তানজিল মুন্সি জানান, ‘ওই নারীর সাথে সোবহান মোল্লার পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল, যা গ্রামবাসী সবাই জানে। তার হত্যার চেষ্টার ঘটনা বানোয়াট। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি একটি দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপ ভ্যানকে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিয়ে এই দূর্ঘটনা ঘটে। তারপর একটি মহলের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ নিরিহ লোকদের হয়রানী করতে এমন একটি মামলা দেয়া হয়েছে। যা তদন্ত করলে প্রমানিত হবে।’
