আবারো অশান্ত হয়ে উঠছে নাজিরপুরের মালিখালি ইউনিয়ন
এস এম তানভীর আহম্মেদ :
আবারো অশান্ত হয়ে উঠছে নাজিরপুরের মালিখালী ইউনিয়ন। বংশীয় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে হিংসার আগুনে এবার ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামে পুড়লো ৬টি বসতঘর। গত মঙ্গলবার সকালে দেয়া এ অগ্নিকান্ড এবং লুটপাটের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ আহত হয়েছে ১০ জন।
মালিখালী পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি ইউনিয়ন। পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এ ইউনিয়নটি একনামে চেনে পিরোজপুর জেলার মানুষ। এ ইউনিয়নের পেনাখালী, ঝনঝনিয়া গ্রামসহ পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে দাড়িয়া, শেখ ও হাওলাদার এ তিনটি বংশের মধ্যে আধিপত্যের বিস্তার নিয়ে বিরোধে গত ৬ বছরে শতাধিক ঘরবাড়িতে অংগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাটের ঘটনা ও শতাধিক মানুষ আহত হবার কারণে মালিখালী নামটি সকলের কাছে পরিচিত। সর্বশেষ গত ৩০ মে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ইউনিয়নে ঝনঝনিয়া গ্রামে ৬টি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী, ঝনঝনিয়া গ্রামে বংশীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাড়িয়া, হাওলাদার ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে পেনাখালী বাজারে দুই বংশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনার পরের দিন হাওলাদার বংশের লোকজন দাড়িয়া বংশের মিজান দাড়িয়া নামের একজনকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর দিন শেখ বংশের নব্য আওয়ামী লীগ নেতা টিপু সুলতানের নেতৃত্বে তার বাহিনী দাড়িয়া বংশের বাড়ী-ঘরে হামলা চালায়। এ সময় টিপু বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দাড়িয়া বংশের শতাধিক বসতঘর। সেদিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইয়াহিয়া দাড়িয়া ও বাবুল শেখ নামে দুজন নিহত হয় এবং দুই পক্ষের দেড় শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় হত্যা মামলাসহ নাজিরপুর থানায় মোট ১০টি মামলা করে। যার মধ্যে ৯টি মামলার প্রধান আসামী টিপু সুলতান। এ ঘটনার পরে অত্র তিন বংশের মধ্যে ছোট বড় সংহিস ঘটনা প্রায়ই ঘটতে থাকে। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী সকালে নিজাম নামে একজনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার দুইপা ভেঙ্গে দেয় টিপু সুলতানের লোকজন। এরপর গত মঙ্গলবার সকালে দাড়িয়া বংশের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু দাড়িয়া নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন গ্রামবাসী ঝনঝনিয়া গ্রামের মুজাহিদ শেখের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাদের হামলা ও আগুনে প্রায় ১০ জন আহত হয়।
মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলার মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হওয়ায় শেখ ও হাওলাদার গ্রুপের আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দু’পক্ষের আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃরা হলেন, দাঁড়িয়া গ্রুপের বাছেত দাঁড়িয়া (৯১) ও মুকুল দাঁড়িয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম (১৭)। প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ টিপু সুলতান গ্রুপের ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ শেখ, তার ভাই রাজিব শেখ, আবু সাঈদ শেখ, বাবু শেখ, তরিকুল শেখ, তাজরুল হাওলাদার ও জাহাঙ্গির ফকির। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করে।
