কলেজ ছাত্রী লামিয়াকে হত্যার অভিযোগ || ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতারের দাবীতে পিরোজপুরে মানববন্ধন
ষ্টাফ রিপোর্টার :
পিরোজপুর শহরের এক কলেজ ছাত্রীকে পুলিশ কনেস্টবল স্বামী যৌতুকের দাবীতে ঝিনাইদহে তার কর্মস্থলে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাঁজিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ পিরোজপুরের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সহপাঠী ¯œাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী লামিয়া নূর (২২) হত্যার বিচার ও হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবীতে বুধবার সকালে শহরে মানববন্ধন করেছে। এ কর্মসূচিতে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও লামিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসীরা অংশ নেন।
লামিয়ার চাচা আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, এক বছর পূর্বে পিরোজপুর শহরের সিআই পাড়া এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও সালামের বড় ভাই আব্দুল কালাম শেখের মেয়ে লামিয়ার নূরের সাথে যশোরে কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের মৃত হামিদ সর্দারের ছেলে পুলিশ সদস্য হানজালা হাসান এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর লামিয়ার স্বামী হানজালা তার চাচা শ্বশুর আলমের কাছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটর সাইকেল দাবি করে। লামিয়ার বাবা ও চাচারা হানজালাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটর সাইকেল দিতে চাইলে সে রাজি হয়নি। এরপর সে বিভিন্ন সময় লামিয়ার উপর শারিরীক নির্যাতন চালাতো।
লামিয়ার আরেক চাচা মোঃ আলম সেখ অভিযোগ করেন, গত ২৭ মে শনিবার দুপুরে পুলিশ সদস্য হানজালা’র কর্মস্থল ঝিনাইদহের একটি ভাড়া বাসায় লামিয়াকে হত্যার পর ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে পিরোজপুরের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লামিয়ার মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যাজনিত। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তখন কেউ চাইলে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা হতে পারে। পুলিশ সদস্য হানজালা হাসান ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনসে কর্মরত। এদিকে মৃতা লামিয়ার লাশ তার স্বামীর হেফাজতে না দিয়ে ঝিনাইদহ থানা থেকে চাচা আলম সেখের কাছে হস্তান্তর করার পর লাশ পিরোজপুরে এনে দাফন করা হয়।
আলম সেখের অভিযোগ ঝিনাইদহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত)সহ সেখানকার অন্যান্য কিছু পুলিশ সদস্য লামিয়ার লাশ যাতে ময়না তদন্ত করা না হয় সেজন্য হানজালার পক্ষে ভূমিকা রাখায় ঘটনাটি নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে পিরোজপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিউল হক মিঠু, পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বাতেন ও সাইদুল্লাহ লিটন, উন্নয়ন কর্মী মাইনুল আহসান মুন্না, নারী নেত্রী ও সাংবাদিক শিরিনা আফরোজ প্রমুখ।
বক্তারা ঝিনাইদহের পুলিশ সদস্য হানজালা হাসানকে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
