বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি-ঘরে ফিরে গেছে মানুষজন
মোঃ কামরুজ্জামান :
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মানুষ স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলেছে। প্রাণহাণী থেকে রক্ষা পেতে সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠা বাসিন্দারা সকাল থেকে বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাগেরহাটে ৮ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত জারি হওয়ার পর জেলার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দুর্যোগ পূর্ব ও পরবর্তি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তবে বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় মোরার কোন প্রভাব না পরলেও মংলা বন্দরে এখনো জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে আজও কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মোঃ ওয়ালিউল্লাহ।
শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের জলোচ্ছ্বাসে শরণখোলার সাউথখালি ইউনিয়নেই প্রায় সাড়ে আটশ মানুষের প্রাণহাণী ঘটে। এরপর থেকে এই এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। দুর্যোগের পূর্বাভাস পেলেই তা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বলেশ^র নদীতীরবর্তি বাধেঁর পাশের মানুষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়।
মংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরার গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় আমরা বাগেরহাটবাসী ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। দুর্যোগ মানেই আতঙ্ক। তবে দুর্যোগের পূর্বাভাস পেলেই উপকূলের মানুষ কিভাবে তাদের জানমাল রক্ষা করবে সেবিষয়ে তারা এখন অনেক বেশি সচেতন। ঘুর্ণিঝড় মোরার বিপদ সংকেত পেয়েই কয়েক হাজার মানুষ মংলা উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে তারা সকালে যার যার বাড়ি ফিরে গেছেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ^াস বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশে মেঘ রয়েছে। তবে কোন বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। দুর্যোগ থেকে জেলার বাসিন্দাদের রক্ষা করতে জেলার নয়টি উপজেলায় ২৩৪টি ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়। বাতিল করা হয় জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি। খোলা হয় ১০টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, গঠন করা হয় ৮৩টি মেডিকেল টিম। এরমধ্যে বেশি ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় শরণখোলা, মংলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠে। সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করলে বাসিন্দারা ফিরতে শুরু করেন।
