প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

 

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি : 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভুতভাবে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মতামত না নিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দ ও উপজেলা উন্নয়ন রাজস্ব তহবিলের অর্থ অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বন্টন করাসহ ৮টি বিষয়ের ওপর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সংরক্ষিত আসনের ভাইস চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তার বেবী এবং উপজেলার ৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান উন্নয়ন তহবিলের অর্থ বাছাই কমিটির সভা ছাড়াই এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রকল্প গ্রহণ না করে ইচ্ছেমত তার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকেন। এছাড়া প্রকল্প গ্রহণে খাতওয়ারী বন্টন, জনসংখ্যা, আয়তন অনুসারে বিভাজন উপেক্ষা করে ইচ্ছেমত বিভাজন করে থাকেন। দরপত্রের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে দুই লক্ষ টাকার নিচের প্রকল্প জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ থাকলেও ছোট ছোট প্রকল্প একিভুত করে দুর্নীতির মাধ্যমে প্যাকেজ দরপত্র আহবান করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে ১% হারের হিস্যা সরকারী পরিপত্র মোতাবেক জনসংখ্যা ও আয়তন অনুযায়ী বিভাজন না করে উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা ব্যয় করে থাকেন। উপজেলা ভূমি উন্নয়ন করের ২% অর্থ উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন ছাড়াই তা উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের মর্জি মত ব্যয় করে থাকেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, উপজেলা পরিষদের কাবিখা, টিআর এর কর্তনকৃত অর্থ, চাল, গম হতে প্রকল্প গ্রহণে উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন ছাড়াই নিজ পছন্দমত ব্যক্তিকে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। উপজেলা পরিষদের অতিদরিদ্র কর্মসূচির আওতায় নন ওয়েজ কষ্ট এর বরাদ্দকৃত অর্থ, ত্রাণ সামগ্রী জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা না করে বন্টন ও বিতরণ করে থাকেন।

এদিকে, এসব অভিযোগ দায়েরের পর বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের জন্য পিরোপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মোঃ কাজী তোফায়েল হোসেনের ওপর দায়িত্ব দেন।

ডিডিএলজি’র কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল হোসেন তদন্ত শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে উল্লেখিত ৮টি বিষয়ের কয়েকটিতে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial