স্বরূপকাঠি ও নাজিরপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কন্ঠ রিপোর্ট :
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, নাজিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কতিপর ইলেকট্রিশায়ন, লাইনম্যানসহ অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় এ চক্রটি নতুন লাইন সংযোগ আনার কথা বলে এ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের সঙ্গীতকাঠি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রদানের নামে একটি চক্র মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চক্রটি ওই গ্রামের ৬৫ জনের কাছ থেকে ইতোমধ্যে নুতন সংযোগ প্রতি ৩ হাজার টাকা এবং খুঁটির জন্য ৫০০ টাকা করে মোট ২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারে জড়িয়ে এক নার্সারি মালিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। সে ঘটনার সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহে ওই এলাকায় গেলে এ অভিযোগ করেন ওই প্রত্যন্ত এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী।
উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান আব্দুর রহিম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলে ৬৫টি পরিবার থেকে নতুন সংযোগ ও খুঁটি দেওয়ার কথা বলে ওই টাকা তুলেছেন। ইউপি সদস্য মোঃ আহসানুল হক মন্টু ও আব্দুর রহিম সংযোগ ও খুঁটির জন্য টাকা তুলে তারা ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদারের কাছে দিয়েছেন বলে অভিযোগ স্বীকার করেছেন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আহসানুল হক মন্টু।
চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার বলেন, ওই এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য একবার টেন্ডার হয়েছিল। আবার পূনরায় টেন্ডার হয়েছে। অচিরেই সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ আসবে। তবে সংযোগের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকাদার। তিনি বলেন টাকার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। এ সবই ষড়যন্ত্রমূলক বলে তিনি দাবী করেন।
ইউপি সদস্য আহসানুল হক মন্টু অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, গত চার পাঁচ মাস আগে গ্রামের উত্তর পাশ থেকে ৪৫টি পরিবার ও সামনে থেকে ৯টি পরিবারসহ আনুমানিক ৬৫টি পরিবারের কাছ থেকে ইলেকট্রিশিয়ান রহিমের মাধ্যমে সংযোগের জন্য তিন হাজার করে টাকা তুলে চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহ খানেক আগে খুঁটির জন্য ৫০০ করে টাকা তোলা হয়েছিল। যা সবই ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকাদারের কাছে জমা দেয়া হয়েছিল। শুনেছি পরে ওই টাকা থেকে রহিমের মাধ্যমে পিরোজপুর অফিসে কিছু পাঠানো হয়েছে। তবে ওই টাকা আমি হাতেও ধরেনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইলেকট্রিশিয়ান আঃ রহিম বলেন, কেউ যদি আমার সামনে এসে বিদ্যুতের জন্য আমার কাছে টাকা দেওয়ার কথা বলতে পারে তাহলে বিশ্বাস করবেন। এর আগে আমার সাথে এসব কথা বলে অযথা মাথা গরম করবেন না। তবে ঘটনা কিছু হয়েছে না হলে এরকম হয়না। কিন্তু এর সাথে আমি জড়িত নই বলে আব্দুর রহিম এ দাবী করেন।
এ ব্যাপারে স্বরূপকাঠি পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মোঃ সাইফুল আহম্মেদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অঙ্গিকারে শতভাগ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ কর্মকর্তা আরো বলেন, স্বরূপকাঠিতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য মোট ৯০০ কিলোমিটার লাইন রয়েছে। যার মধ্যে ৬২৪ কিলোমিটার লাইন নির্মিত। এছাড়া বর্তমানে স্বরূপকাঠিতে ২১৭ কিলোমিটার নুতন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। যা আগামী ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করছি। তাই নুতন সংযোগ দেওয়ার জন্য একমাত্র নির্ধারিত ৬৫০ টাকার ফি ছাড়া কোন টাকা পয়সা নেয়া হয়না। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামেও নতুন সংযোগ দেয়ার নাম করে একটি চক্র এরাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের খরচের নাম করে বিভিন্ন বাড়ি থেকে এক হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্রামবাসী জানান, নতুন বিদ্যুৎ লাইন আনার খরচ বাবদ এক হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। কিন্তু অধ্যবদি এলাকায় কোর খুঁটি বসেনি। লাইন আসাতো দূরের কথা।
