প্রধান সূচি

পিরোজপুর সরকারি গণ গ্রন্থাগার || বই আছে ২২ হাজার : সদস্য মাত্র ২৩ জন

শফিকুল ইসলাম জয় :

পিরোজপুর সরকারি গণ গন্থাগারে রয়েছে সাড়ে ২২ হাজার বই। রয়েছে পরিপাটি পরিবেশে বই ও সংবাদপত্র পড়ার পরিবেশ। কিন্তু সেখানে পাঠক রয়েছে মাত্র ২৩ জন।

এছাড়া গণ গন্থাগারে রয়েছে জনবল সংকট। লাইব্রেরিয়ানসহ চারটি পদের মধ্যে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। একমাত্র সহকারী লাইব্রেরিয়ান চালাচ্ছেন গণ গ্রন্থাগারের কাজ।

সরেজমিনে কথা হয় গণ গ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোঃ জালালের সাথে। তিনি জানান, গণ গন্থাগারে ২২ হাজার ৪০০ বই রয়েছে। প্রতিদিন ১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। বইয়ের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই, উপন্যাস, কবিতা, ইসলামিক, অভিধানসহ ইংরেজী ভাষায় লেখা বই। এখানে একসাথে ১৩০ জন পাঠক বই পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ পাঠক গণ গন্থাগারে বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসেন। পাঠকদের মধ্যে স্কুল কলেজের শিক্ষাথী সংখ্যা বেশি। তবে গণ গন্থাগারের সদস্য সংখ্যা মাত্র ২৩ জন।

সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোঃ জালাল আরও জানান, ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ৩৩ শতাংশ জমির ওপর একতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনে গণ গন্থাগারটির কাযক্রম শুরু হয়। সুন্দর পরিপাটি ও নিরিবিলি পরিবেশে বই পড়ার পরিবেশ থাকলেও শুরু থেকেই পাঠকদের আগ্রহ খুবই কম। এখানে দেশ বিদেশের নানা তথ্য জানতে গণ গন্থাগারে ইন্টারনেট সেবা চালু রয়েছে। গণ গন্থাগারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলেও সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাচ্ছেনা।

কয়েকজন পাঠকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পিরোজপুর সরকারি গণ গন্থাগারে বই ও সংবাদপত্র পড়ার সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। তারা নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার জন্য এখানে আসেন। তরুণ পাঠকরা সংবাদপত্রের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বই পড়ছেন। তবে গবেষণা মূলক বই বেশি রাখার দাবী জানিয়েছেন কলেজের কয়েকজন শিক্ষাথী।

পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনির শিক্ষার্থী তাহসিনুল ইসলাম মাহি বলেন, আমি গল্পের বই পড়তে অনেক পছন্দ করি। তাই স্কুলের অবসর সময়ে গণ গন্থাগারে বই পড়তে চলে আসি। একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইমন-উল-ইসলাম জানায়, গল্পের বই পড়াসহ সাধারণ জ্ঞানের বই পড়ার জন্য স্কুল ছুটির পর এখানের লাইব্রেরীতে চলে আসি। এখানে বরেস বই পড়তে বেশ মজা লাগে।

সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নবীন হোসেন রানা বলেন, আমি কবিতার বই পড়তে ভালবাসি। তবে চাহিদামত সব বই এখানে পাওয়া যায় না।

এসব বিষয়ে সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোঃ জালাল জানান, মানুষের মধ্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে সরকারি গণ গন্থাগারের প্রচার প্রচারণার বাড়াতে হবে।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial