সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের গোলপাতা কূপের ৬ বন কর্মকর্তা-কর্মচারী সাসপেন্ড
কন্ঠ রিপোর্ট :
সুন্দরবনের এক মাস আগে শেষ হওয়া গোলপাতা আহরণ মৌসুমে সুন্দরী কাঠসহ বিভিন্ন কাঠ চুরিতে সহযোগিতা ও বনজ সম্পদ রক্ষায় অবহেলার অভিযোগে শরণখোলা রেঞ্জের দুই বন কর্মকর্তাসহ ৬ বনকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের স্টেশন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ এনে তাদের কৈফিয়ত তলব করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও।
বরখাস্তকৃতরা হলেন শরণখোলা গোলপাতা কূপের কূপ অফিসার মোঃ আমজাদ হোসেন, সহকারী কূপ অফিসার মোঃ মোবারেক হোসেন, বনরক্ষী হারুণ অর রশীদ ও আব্দুল আউয়াল, নৌকা চালক মোঃ সেলিম সরকার, নূরুল ইসলাম, মোঃ বাদশা শেখ ও আব্দুর রশীদ সিকদার। শোকজ পাওয়া স্টেশন অফিসার হলেন শরণখোলার এসও মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বন কর্মচারীগণ।
এ প্রসংগে ডিএফও মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, বরখাস্তকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বরখাস্তের কারণ প্রসংগে ডিএফও বলেন, এক মাস আগে সমাপ্ত গোলপাতা কাঁটা মৌসুমে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা এবং বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার গোলপাতা ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ সুন্দরবনের কাঠ চুরি করে লোকালয় নিয়ে আসার সাথে ওই বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করেছেন। গত ৭ এপ্রিল স্বরূপকাঠিতে বন বিভাগের স্থানীয় উপজেলা বন কর্মকর্তা কোস্টগার্ডের সহায়তায় সুন্দরবনের ১৫০০ ঘনফুট চোরাই কাঠ আটক করে। এ ঘটনায় আটক একজনের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। তবে রুজুকৃত মামলার ১ নং আসামী স্বরূপকাঠির কুখ্যাত কাঠ চোরা কারবারি সালাম রেজা এ মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নানা অপপ্রয়াস চালায়। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় স্থানীয় ইউএনও, পৌর মেয়র ও চার জন ইউপি চেয়ারম্যানকে দিয়ে বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনকে নানা ভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। এর অংশ হিসাবে গত বৃহস্পতিবার সাজ্জাদকে দৈহিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে এবং বন প্রশাসনে মারাত্মক তোলপাড় সৃষ্টি হলে সুন্দরবন প্রশাসন এর নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলপাতা আহরণ মৌসুমে সুন্দরবনে শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন গোল কূপে যে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় স্বরূপকাঠির এই ঘটনাটি ঘটেছে।
